শিক্ষার আলো জীবনের সমস্ত অন্ধকারকে দূর করতে পারে, তবে অভাবের কারণে সেই আলো কখনো কখনো ম্লান হয়ে যায়। আমাদের সমাজে এমন বহু কাহিনি রয়েছে যেখানে শিক্ষার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। তবে কখনো কখনো এই সংগ্রাম এতটাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায় যে একজন শিক্ষার্থী জীবনের সমস্ত আশা হারিয়ে ফেলে। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানা এলাকায় এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।
গ্রামের মেধাবী মেয়েটি, যে পড়াশোনায় বরাবরই ভালো ছিল, এবার নতুন ক্লাসে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস, তার বাবা একজন রিকশাচালক। পরিবারে টানাটানির সংসার, যেখানে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়। এই অবস্থায় মেয়েকে নতুন ক্লাসে ভর্তি করার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
শনিবার দিনটি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সারেঙ্গাবাদ ইটখোলা হাই স্কুলে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে ভর্তিপ্রক্রিয়া চলছিল। সহপাঠীরা সবাই ভর্তি হয়ে গেলেও নাসিমার বাবা তাকে একটি দিন অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। কিন্তু ছোট্ট মেয়েটির মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল এই প্রতীক্ষা। সেই একদিনের অপেক্ষাই যেন হয়ে উঠল তার জীবনের সবচেয়ে বড় বোঝা।
শনিবার দুপুরে যখন পরিবারের সবাই নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিল, তখনই নাসিমা ঘরের মধ্যে বিষপান করে। পরিবারের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেয়েটিকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় দেখতে পান। তৎক্ষণাৎ তাকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। শনিবার রাতেই মেধাবী ছাত্রীটির মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুনঃ সোমবার থেকে আবহাওয়ায় বিরাট বদল! ফের উধাও হতে পারে শীত? জানুন হাওয়া অফিস কি বলছে
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। নাসিমার মৃত্যু আমাদের সমাজের সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে যেখানে শিক্ষা নিয়ে স্বপ্ন দেখা এখনও অনেকের কাছে বিলাসিতা। এই ঘটনায় যেন আমাদের সমাজের কাছে এক বিরাট প্রশ্ন রেখে যায়—অভাবের কারণে আর কত স্বপ্ন ধূলিসাৎ হবে?






