ধর্মান্তরণের নামে জঙ্গি নিয়োগ? বাংলার জেলে বসেই দেশবিরোধী চক্রান্তের ভয়ংকর খেলা!

বাংলার সমাজ পরিবর্তনের এক নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং, এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ঘটনায় দেখা গিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষকে প্রথমে এক বিশেষ মতাদর্শে বিশ্বাসী করানো হচ্ছে, তারপর ধীরে ধীরে তাদের মানসিকতা বদলে দেওয়া হচ্ছে। কখনও তা ধর্মীয় কারণে, কখনও বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। এই প্রবণতা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক কালে এর ভয়ঙ্কর দিক সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজের দুর্বল অংশকেই মূলত নিশানা বানানো হচ্ছে, এবং তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে চরমপন্থী কার্যকলাপে।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রস্থল হিসেবে উঠে আসছে কারাগারগুলি। যেখানে অপরাধীদের সংশোধন হওয়ার কথা, সেখানে নতুন করে তৈরি হচ্ছে চরমপন্থী দল। বহু বিশেষজ্ঞই দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, জেলে বসেই অপরাধ জগতের নয়া পরিকল্পনা করা হয়। তবে এবার তা আরও গভীরে চলে গিয়েছে। ধর্মান্তরণ শুধু ব্যক্তিগত বিশ্বাসের পরিবর্তন নয়, বরং এর মাধ্যমে নতুন করে তৈরির চেষ্টা হচ্ছে এমন একদল মানুষ, যারা ভয়ঙ্কর হতে পারে সমাজের পক্ষে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলিও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ, জেলে বসেই যদি অপরাধী আরও বড় ষড়যন্ত্রের প্ল্যান তৈরি করে, তাহলে তা রুখতে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে প্রশাসনকে।

এই প্রেক্ষাপটেই উঠে এসেছে নদিয়ার থানাপাড়ার ঘটনা। সম্প্রতি, সেখানে গ্রেফতার হয়েছে বিপ্লব বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ তদন্তকারী দলের রিপোর্ট বলছে, জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের এক শীর্ষ সদস্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তার। শুধু তাই নয়, জেলের ভেতরে বসেই নাকি তার ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল, এবং তারপর জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত করা হয়েছিল। প্রথমে তার মগজধোলাই করা হয়, তারপর তাকে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করানো হয়।

আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নয়া নিয়ম! ১ এপ্রিলের পর ভাতা মিলবে তো? নিয়ম না মানলেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ!

বিপ্লবের ধর্মান্তকরণ করিয়ে ‘আব্দুল’ নামে পরিচিত করানো হয়েছিল তাকে, এবং এই কাজের নেপথ্যে ছিল বহরমপুর জেলে বন্দি থাকা তারিকুল। তারিকুল শুধুমাত্র বিপ্লবকে নয়, আরও তিনজনকে একইভাবে ধর্মান্তরিত করেছে বলে দাবি করছে এসটিএফ। অথচ, এত বড় ঘটনা কীভাবে দীর্ঘদিন জেলের মধ্যে চলছিল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর থেকেই এই জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে গোয়েন্দা সংস্থা। তখনই গ্রেফতার করা হয়েছিল তারিকুলকে, কিন্তু তার কর্মকাণ্ড জেলের মধ্যেই অব্যাহত ছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, শুধু বাংলার জেল নয়, অন্য জায়গাতেও এমন ঘটছে কিনা, তা নিয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, সমাজের এক অংশকে প্রথমে ধর্মান্তরিত করা, তারপর তাদের জঙ্গি কার্যকলাপে নামানোর মতো ঘটনা যদি চলতেই থাকে, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড়সড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর