রমজান মাস ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র সময়গুলোর একটি। আত্মশুদ্ধির মাস হিসেবে পরিচিত এই সময়ে মুসলিম সম্প্রদায় সেহরি, ইফতার, তারাবি নামাজ এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে। বিশেষ করে শুক্রবারের জুমার নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সেই সময়ে আল্লাহর প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করেন, তাঁর করুণা ও মঙ্গল কামনা করেন। কিন্তু কল্পনাও করা যায়নি, এবারের রমজানে এমন এক ভয়ংকর বিপর্যয় নেমে আসবে, যা মুহূর্তের মধ্যেই কেড়ে নেবে শত শত প্রাণ! সেই দিনের বিভীষিকা আজও ভুলতে পারছেন না মায়ানমারের মানুষ।
শুক্রবার, ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল। মসজিদে জমায়েত হয়েছিলেন অসংখ্য মুসল্লি। হঠাৎ করেই মাটি কেঁপে ওঠে, মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় একাধিক মসজিদ। শান্ত নামাজের মুহূর্ত এক লহমায় পরিণত হয় বিভীষিকায়। মানুষ প্রাণভয়ে ছুটে বেড়াতে শুরু করলেও অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান। রমজানের মতো পবিত্র সময়ে এমন মর্মান্তিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে হতবাক গোটা দেশ।
ভূমিকম্পের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত মায়ানমার
সেদিন মায়ানমারে রিখটার স্কেলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। ১২ মিনিটের ব্যবধানে আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৬.৪। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় আরও বেশ কয়েকটি মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মান্দালয় শহর। সেখানেই প্রায় ৬০টি মসজিদ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়ে। ঐতিহাসিকভাবে মায়ানমার ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হলেও এমন বিধ্বংসী কম্পন সাম্প্রতিক কালে দেখা যায়নি। ভূমিকম্পের ফলে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চললেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।সোমবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন ১,৭০০ জনেরও বেশি। আহত হয়েছেন অন্তত সাড়ে তিন হাজার মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। স্প্রিং রেভলিউশন মায়ানমার মুসলিম নেটওয়ার্কের সদস্য তুন কি জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করছে, তবে ধ্বংসস্তূপের বিশালত্বের কারণে সময় লাগছে। অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতেই পারেননি।
আরও পড়ুনঃ Debangshu Bhattacharya : ‘দল বিপদে, আর ওঁরা নিশ্চুপ!’ তৃণমূলের নেতাদের ধোলাই দেবাংশুর, কাকে কাকে কটাক্ষ?
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা— আবারও হতে পারে ভূমিকম্প!
মার্কিন ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, মায়ানমারের ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের অবস্থান অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইন্ডয়ন ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষের কারণে ভূমিকম্পের প্রবণতা আরও কয়েক মাস ধরে অব্যাহত থাকতে পারে। তারা সতর্ক করেছেন, মান্দালয়সহ আশেপাশের এলাকায় আরও বড় ধরনের কম্পন হতে পারে। এই আশঙ্কার কারণে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। মায়ানমার এখন এক গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে শুধুমাত্র ভবন নয়, মানুষের স্বপ্নও। নামাজরত অবস্থায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারগুলোর কান্না আর আহাজারিতে ভরে উঠেছে শহরগুলোর আকাশ। পরবর্তী ভূমিকম্পের আতঙ্কের পাশাপাশি শোকগ্রস্ত মানুষ এখন শুধুই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন, যেন আর কোনোদিন এমন বিভীষিকা দেখতে না হয়।






