বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনীতিতে যেন বিতর্কের শেষ নেই। যখনই পরিস্থিতি খানিকটা স্থিতিশীল হতে শুরু করে, ঠিক তখনই সামনে আসে নতুন কোনও ইস্যু। কখনও দেশীয় রাজনীতি, কখনও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কখনও বা সীমান্ত সমস্যা। আর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি নতুন অধ্যায়। এমন এক অভিযোগ সামনে এসেছে, যা শুনলে রীতিমতো চমকে উঠবেন সাধারণ মানুষ।
বিগত কয়েক বছর ধরেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল তুঙ্গে। একদিকে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সৌহার্দ্যের বার্তা, অন্যদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের মতো একাধিক ইস্যু। এর মধ্যেই সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক নতুন করে নজর কেড়েছে। আর সেই বৈঠকের পরই ঘনীভূত হয়েছে নতুন বিতর্ক।
মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পরই বিস্ফোরক অভিযোগ বাংলাদেশের লেবার পার্টির
বৈঠকের পর একদিন কাটতে না কাটতেই বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এমন এক দাবি করে বসেন, যা শুনে অবাক সবাই। তাঁর অভিযোগ, মহম্মদ ইউনুসের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র (RAW)-এর একাধিক এজেন্ট নাকি সক্রিয় বাংলাদেশের মাটিতে। শুধু তাই নয়, এই কাজের জন্য নাকি বিনিয়োগ করা হয়েছে হাজার-হাজার কোটি টাকা। ইরানের অভিযোগ, ‘পরিকল্পিতভাবে ভারতীয় এজেন্টরা বাংলাদেশে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই — মহম্মদ ইউনুসের ভাবমূর্তি ধ্বংস করা।’ তাঁর আরও দাবি, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং স্বাধীন মতকে স্তব্ধ করতে চায় কিছু বিশেষ মহল।’
ভারতীয় RAW এজেন্টদের বিরুদ্ধে তোপ
লেবার পার্টির প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, “৫৪ বছর স্বাধীনতা পেরিয়ে এলেও আমাদের দেশের রাজনীতি এখনও স্বপ্নের জায়গায় পৌঁছয়নি। বরং দুর্নীতি, লুটপাট আর একদলীয় শাসনের শিকার হয়েছি আমরা। এখন আবার নতুন করে র-এর এজেন্টদের তৎপরতা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” ইরানের দাবি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে অর্থবহ সংস্কার জরুরি। অথচ, সেটাই নাকি হতে দেওয়া হচ্ছে না। বরং মহম্মদ ইউনুসের মতো নেতৃত্বকে কালিমালিপ্ত করার জন্য বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ চলছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তাঁর।
মোদী-ইউনুস বৈঠকে কী কী নিয়ে আলোচনা হয়েছিল?
জানা গিয়েছে, ৪ এপ্রিল দু’দেশের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কথা হয়। প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে সীমান্ত অনুপ্রবেশ, সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রসঙ্গ উঠে আসে। অন্যদিকে, মহম্মদ ইউনুস শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, তিস্তা-গঙ্গা চুক্তি এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করেন। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকেও বৈঠককে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Donald Trump : ট্রাম্পের এক সিদ্ধান্তে কাঁপছে ভারত-ভিয়েতনাম-ইজরায়েল! হাতে মাত্র ৪ দিন, এবার কি শুরু হতে চলেছে ‘ট্যাক্স যুদ্ধ’?
তবে এতকিছুর পরও প্রশ্ন একটাই — মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পরই কেন এই ধরনের অভিযোগ উঠল? আদৌ কী বাংলাদেশের রাজনীতিতে র-এর এই alleged (অভিযুক্ত) ভূমিকা রয়েছে? নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক কৌশল? সময়ই বলবে তার উত্তর। তবে আপাতত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উপর এই অভিযোগের প্রভাব কতটা পড়ে, সেটাই দেখার অপেক্ষায় দুই দেশের মানুষ।






