কাশ্মীর— নামটা শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে তুষারাবৃত পাহাড়, হিমবাহের পাশে বসে থাকা পর্যটকের হাসিমুখ, আর শান্তির ছোঁয়া। গত কিছু বছরে নানা টানাপড়েনের পর অনেকেই ভাবছিলেন, অবশেষে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ভূস্বর্গ। সেই বিশ্বাস নিয়েই যাঁরা গিয়েছিলেন পরিবার নিয়ে বেড়াতে, তাঁদের কাছে এই সফর ছিল কেবলই কিছু স্মৃতি আর হিমালয়ের কোলে কাটানো ভালবাসার মুহূর্তের গল্প গাঁথা। কিন্তু কারও কারও জন্য সেই সফরই হয়ে উঠল শেষ গন্তব্য।
বাড়ির লোকেরা ভাবেননি, যাঁকে সকলে ‘জলি’ বলে ডাকতেন, পাড়ার ক্লাবের প্রাণ ছিলেন যিনি, সেই সমীরদা এমন কোনও দুঃস্বপ্নের শিকার হবেন। স্ত্রী ও কিশোরী মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। মেয়ের পরীক্ষার পরই পরিকল্পনা করেছিলেন কাশ্মীর যাত্রার। বেড়াতে গিয়ে ছবি তুলেছেন, হাসিমুখে সেলফি পাঠিয়েছেন, অথচ সেই মুখই রাত তিনটের ফোনে রক্তাক্ত হয়ে উঠল পরিবারের কাছে।
গত ১৬ এপ্রিল কাশ্মীর ঘুরতে যান বেহালার সখেরবাজারের বাসিন্দা সমীর গুহ। পহেলগাঁওয়ের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে সন্ধ্যাবেলায় বিশ্রামের জন্য পৌঁছন একটি রিসর্টে। আর সেখানেই ঘটে অপ্রত্যাশিত মর্মান্তিক ঘটনা। স্ত্রী ও কন্যার সামনেই আচমকা শুরু হয় গুলি। প্রথমে পরিবার কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি। আচমকাই আতঙ্কে ছুটোছুটি, গোলাগুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো রিসর্ট।
পরিবার, আত্মীয়-স্বজনরা প্রথমে খবর পান টিভির পর্দায় ভেসে ওঠা দুঃসংবাদ দেখে। আশঙ্কায় ভেঙে পড়েন সকলে। একাধিকবার ফোন করেও পাননি সমীরকে। তারপর রাত তিনটের সময় পহেলগাঁও থেকেই ফোন করেন গাড়িচালক। ফোন যায় সমীরের শ্যালক সুব্রত ঘোষের কাছে। তিনি জানান, “আমরা টিভিতে খবর দেখে শঙ্কিত হলেও এতটা খারাপ কিছু হতে পারে ভাবিনি। ফোন পেয়ে সব শেষ মনে হচ্ছিল।”
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi: দেশে ফিরেই মোদির স্পষ্ট বার্তা – ‘রেহাই নয়, এবার চরম শাস্তি!’ বিমানবন্দরে জরুরি বৈঠক!
অনন্তনাগ জেলার বৈসরন ভ্যালিতে ঘটে এই মর্মান্তিক জঙ্গি হামলা। একদল পর্যটককে লক্ষ্য করে আচমকা গুলি চালায় জঙ্গিরা। সেই দলে ছিলেন সমীর গুহও। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনজন বাঙালি পর্যটক, যাঁদের মধ্যে ছিলেন বেহালার ‘জলি’ সমীরদা। স্তব্ধ তাঁর পাড়া, ক্লাব, বন্ধুবান্ধব। বিশ্বাস করতে পারছেন না কেউ— ঘুরতে গিয়ে পরিবার সামনেই ঝাঁঝরা হয়ে গেলেন তাঁদের প্রিয়জন। কাশ্মীর আবারও প্রমাণ করল— বিভীষিকা এখনও ঘাপটি মেরে রয়েছে ভূস্বর্গের বুকেই।






