রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ। আলোচনার কেন্দ্রে এবার তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয়েছে বিশেষ রুল নোটিস। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট দিনে তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি এসএলএসটি শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষা প্রার্থীদের এক বিক্ষোভ ঘিরে তুমুল বিতর্ক ছড়িয়েছিল রাজ্যজুড়ে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ায় বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়। এরপরই গোটা বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। আদালতের তরফে গঠিত হয় তিন বিচারপতির একটি বিশেষ বেঞ্চ। বিক্ষোভের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এলেও, নাম জড়ানো হয়েছে এক তৃণমূল নেতারও।
এই ঘটনার পরে বিভিন্ন মহল থেকে নানারকম প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। একাংশের মতে, বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, আদালতের রায়ই শেষ কথা। একাধিক বিরোধী শিবিরের তরফেও ইতিমধ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করা হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, আইনকে সকলেরই মানতে হবে, তা সে যেই হোন না কেন। আবার, শাসক শিবিরের একাংশ দাবি করেছে, ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর নাম জড়ানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, মামলার শুনানির সময় অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবীরা হলফনামা জমা দেওয়ার প্রস্তুতি জানালেও তা শেষ পর্যন্ত জমা পড়েনি। আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কেউই হলফনামা জমা দেননি। ফলে রুল জারি করা হয়েছে সকলের বিরুদ্ধেই। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, বিক্ষোভের দিন তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে আদালত এই যুক্তি মানেনি বলেই জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Crime News : ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের টোপ! আরিয়ান খান ও মায়ের বিরুদ্ধে, যুবতীকে বন্দি রেখে পা’শবিক নি’র্যাতনের অভিযোগ!
শেষপর্যন্ত, নারকেলডাঙা থানার মাধ্যমে তৃণমূল মুখপাত্র তথা দলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষের কাছে রুল নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁকে আগামী ১৬ জুন দুপুর সাড়ে ১২টায় কলকাতা হাই কোর্টের তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চের সামনে সশরীরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়তে পারবেন না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, কোন যুক্তিতে তাঁকে জেলে পাঠানো হবে না বা শাস্তি দেওয়া হবে না, তা কুণাল ঘোষকে আদালতে লিখিতভাবে জানাতে হবে। আইন বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে সোজাসুজি জেলে পাঠানোর সম্ভাবনাও থাকছে।






