সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ এলাকায় পুলিশের হঠাৎ অভিযান ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বুধবার রাতভর চলা সেই তল্লাশি অভিযানে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বোমার মশলা। ঘটনার জেরে এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তবে শুধুমাত্র বোমার মশলা নয়, পুলিশের দাবি, গ্রেফতার হওয়া পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে এক জন আবার আরএসএস (RSS)-এর সক্রিয় সদস্য। এই তথ্য সামনে আসতেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়।
আজ বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় গোটা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ। ডায়মন্ড হারবার জেলার পুলিশ সুপার রাহুল গোস্বামী জানান, বুধবার সন্ধে পৌনে ন’টা নাগাদ বজবজ থানার পুলিশ তিনটি বাইকে করে বিপুল পরিমাণ বোমার মশলা পাচারের সময় অভিযুক্তদের ধরে ফেলে। উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলির মধ্যে ছিল সোডিয়াম পাউডার, দশ কেজিরও বেশি অ্যালুমিনিয়াম পাউডার, ফসফরাসের গুঁড়ো, রেড সালফার প্রভৃতি, যা সরাসরি বোমা তৈরির কাজে ব্যবহার হয় বলে জানিয়েছেন এসপি।
এসপি আরও জানান, ধৃতদের জেরা করে জানা যায়, তাঁদের মধ্যে নবীনচন্দ্র রায় নামের একজন ব্যক্তি আরএসএস-এর সক্রিয় কর্মী। নবীনবাবুর নাম আগে থেকেই পুলিশের নজরে ছিল। রাম নবমীর দিন বাটা মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডে বাধা দেওয়ার ঘটনাতেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল। সে সময়কার একটি ভিডিও ফুটেজ পুলিশের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন এসপি গোস্বামী। গ্রেফতার হওয়ার পর নবীন নিজেই এই বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য, মঙ্গলবার রাতে সন্তোষপুর-রবীন্দ্রনগর এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা অঞ্চল। ঘটনায় একাধিক পুলিশ কর্মী আক্রান্ত হন। ইটের ঘায়ে এক মহিলা পুলিশ কর্মীও আহত হন, যদিও তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঠিক তার পরদিনই এই বোমার মশলা উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ sealdah Local Train : সপ্তাহের শেষে বন্ধ ৪৬টি লোকাল ট্রেন, বদল ট্রেনের সময়ও! শিয়ালদহ-শান্তিপুর লাইনে চূড়ান্ত বিভ্রাট!
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজেপি নেত্রী ও বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর অভিযোগ, “আরএসএস সবসময়েই নরম লক্ষ্য। যারা আসল অপরাধী তাদের পুলিশ ধরছে না। বরং নবীন রায়কে টেনে এনে গ্রেফতার করা হচ্ছে।” তাঁর মতে, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, “বিজেপি এবং আরএসএস-কে দোষারোপ করে আসল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে।” এই ঘটনার তদন্ত আপাতত জোরকদমে চালাচ্ছে পুলিশ। তবে আরএসএস কর্মী গ্রেফতার হওয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আরও বাড়বে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।





