এক সময় বাংলার রাজনীতিতে ছিল আদর্শের লড়াই, মতাদর্শের সংঘাত। এখন তার জায়গা নিচ্ছে হিংসা আর প্রতিহিংসার রাজনীতি। শাসক-বিরোধী বিতর্ক ছাড়িয়ে এখন রাস্তায় বেধড়ক মারধর, মুখে কালি, ভিডিও ভাইরাল—এই ছবি যেন সাধারণ মানুষের ভরসাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। ‘রাজনীতি করলে মার খেতে হবে’—এটাই কি তাহলে আজকের বার্তা?
সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরে এমনই এক লজ্জার ঘটনা সামনে এসেছে। ৬৬ বছরের প্রবীণ বাম নেতা অনিল দাসকে প্রকাশ্য রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাস্থল খড়গপুরের খরিদা মোড়। অনিলবাবু ওই সময় স্কুটিতে করে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, শাসক দলের নেত্রী বেবি কোলে এবং তাঁর অনুগামীরা আগে থেকেই ওঁর অপেক্ষায় ছিলেন। আচমকাই তাঁকে ঘিরে ধরে শুরু হয় মারধর।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবীণ নেতার মুখে কালি লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি রঙের দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখান থেকেও তাঁকে টেনে বের করার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ, এই পুরো ঘটনাই পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে বেবি কোলে ও তাঁর অনুগামীরা। অনিলবাবুর দাবি, তাঁর পকেটে থাকা তিন হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি তাঁকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
অনিলবাবু বলেন, খড়গপুরে একটি নির্দিষ্ট পরিবারকে বেবি কোলেরা নিয়মিত হেনস্তা করে আসছেন। সেই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং থানায় অভিযোগ জানানোই তাঁর অপরাধ। এই প্রতিবাদের ফলেই তাঁর ওপর হামলা। তিনি বলেন, “ওরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে বসেছিল। রাস্তায় ফেলে মারল, পকেট থেকে টাকা-মোবাইল নিয়ে গেল। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম, ওরা মারতেই চেয়েছিল।”
আরও পড়ুনঃ Train Disruption: রাস্তার দাবিতে রেল অবরোধ! আটকে হাসনাবাদ শাখার আট ট্রেন, অফিস টাইমে হাহাকার!
খড়গপুরের ঘটনাই নয়, একই দিনে উত্তর ২৪ পরগনার মোহনপুরের শিউলি এলাকাতেও দেখা গেল তৃণমূল নেতার ‘দাদাগিরি’র ছবি। সেখানেও এক মহিলাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ। মহিলার দাবি, চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছিলেন পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী সহিদুল গাজি। টাকা ফেরত চাইলে মারধর করেন তিনি ও তাঁর ভাই। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়, এবং দু’জনকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পরপর এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, দলীয় ছত্রছায়ায় কি রাজ্যজুড়ে লাগামছাড়া দাদাগিরি চালিয়ে যাচ্ছেন কিছু ‘নেতা’?






