রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের কাজ শুরু হতেই ফের উত্তপ্ত রাজনীতি। কোথাও বিএলও (BLO) আক্রান্ত, কোথাও আবার বিজেপির মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা পড়ছেন বিপাকে। শহর কলকাতার প্রগতি ময়দান থানা এলাকাতেও মিলল তেমনই এক ঘটনার নজির। ভোটের আবহ না থাকলেও রাজনৈতিক সংঘাত যেন আগেভাগেই শুরু হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ উঠছে, তৃণমূলের আশ্রয়ে থাকা দুষ্কৃতীদের হাতেই আক্রান্ত হলেন এক বিজেপি কর্মী।
রাজ্যজুড়ে যখন ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের কাজ চলছে, তখন রাজনৈতিক পারদও একেবারে চরমে। প্রশাসনের তরফে একদিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআর ফর্ম বিলি করছেন বিএলও-রা, অন্যদিকে তাদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠে আসছে বিভিন্ন জেলা থেকে। এবার সেই উত্তাপের আঁচ এসে পৌঁছল কলকাতার বুকে। অভিযোগ, শহরেই আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি-র সক্রিয় কর্মী মেঘনাদ দাস।
পেশায় ব্যবসায়ী মেঘনাদ দাস প্রগতি ময়দান এলাকার বাসিন্দা। তিনি সরাসরি বিএলও বা বিএলএ (BLA)-এর সঙ্গে যুক্ত না হলেও, স্থানীয় মানুষদের এসআইআর ফর্ম সংক্রান্ত কাজকর্মে সাহায্য করতেন। কেউ ফর্ম ফিল-আপ করতে না পারলে পাশে দাঁড়াতেন, প্রয়োজনীয় নথির দিকনির্দেশ দিতেন। এলাকায় অনেকেই তাঁকে ‘ত্রাতা’ বলেই চিনতেন। কিন্তু সেই সাহায্যই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল তাঁর জীবনে।
মেঘনাদের অভিযোগ, এই কাজের জেরেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর কথায়, “আমি মানুষকে শুধু সাহায্য করতাম। কিন্তু তাতেই ওরা রেগে গেল।” তাঁর দাবি, তৃণমূলের কর্মী দীপক হালদার ওরফে হাঁসুর নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে। মেঘনাদের অভিযোগ অনুযায়ী, হাঁসু একটি কালো গাড়িতে চেপে আসে, সঙ্গে ছিল প্রায় ২০-৩০ জন। তাঁকে মাঝরাস্তা থেকে টেনে এনে বেধড়ক মারধর করা হয়।
আরও পড়ুনঃ Viral video: চলন্ত গাড়ির জানলা দিয়ে প্রায় ন*গ্ন তরুণী!ভাইরাল ভিডিও ঘিরে উত্তেজনা!
এটাই প্রথম নয়, এর আগেও বিজেপি করার ‘অপরাধে’ রাতে তাঁকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল বলে দাবি মেঘনাদের। এবারও মারধরের পর আতঙ্কে তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই প্রগতি ময়দান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। পুলিশের তদন্ত শুরু হলেও, এখনো পর্যন্ত স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত।






