উত্তর ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন গভীর উদ্বেগে। শুধু দিল্লি নয়, হরিয়ানার ফরিদাবাদেও বিস্ফোরক উদ্ধার এবং নাশকতার ছক ধরা পড়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, গত দুই বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছিল। তবে এই ঘটনায় জড়িত মূল চক্রের পরিচয় ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।
ফরিদাবাদের আল-ফালাহ্ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক শাহিনকে ধরা পড়েছে। লখনউর বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে ফরিদাবাদে ছিলেন তিনি। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, শাহিনের আচরণ বেশ রহস্যময় ছিল, প্রায়ই কেউ কিছু না জেনে হাসপাতাল থেকে চলে যেতেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাঁর আচরণ নিয়ে অভিযোগ পেয়েছিল, কিন্তু কেউই ধারণা করতেন না, তিনি দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক কোনো চক্রের সঙ্গে যুক্ত।
সোমবার ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জাতীয় বিস্ফোরক। তদন্তকারীরা বলছেন, এটি কেবল এক প্রাথমিক ধাপ। উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে মোট ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। এই বিস্ফোরক ব্যবহার করে বড়সড় নাশকতা পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। শাহিনের জেরায় উঠে এসেছে, তিনি উমর উন নবি, আদিল মাজিদ রাথর ও মুজ়াম্মিল আহমেদের সঙ্গে এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে ফরিদাবাদের উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের সম্পর্ক ধীরে ধীরে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেরায় শাহিন জানিয়েছে, উমর নাকি দেশে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করতেন এবং অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতেন। এই চক্রের মূল চার সদস্য—শাহিন, উমর, আদিল ও মুজ়াম্মিল—সবাই চিকিৎসক পেশায় যুক্ত।
আরও পড়ুনঃ Delhi 10/11 blas*t : ডাক্তার থেকে জঙ্গি! ফরিদাবাদ-দিল্লি ষড়যন্ত্রে এক ইমামের ছায়া—চিকিৎসা নাকি ‘জিহাদ’-এর পাঠ?
তদন্তকারীরা লালকেল্লা ও ফরিদাবাদসহ অন্যান্য স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজনের নাম জড়িত থাকার কথা সামনে এসেছে, যার মধ্যে পারভেজ সইদের নামও আছে। তদন্ত এখনো চলমান। পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো চেষ্টা করছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরণ পরিকল্পনার পুরো চিত্র বের করতে। সূত্রের দাবি, এই চক্র পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে নাশকতার ছক সাজাত।






