তিন বছর পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এক সময় মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই নেতার রাজনীতি যেন আবারও নতুন মোড়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেই তিনি জানালেন, এবার বিধানসভায় অংশ নিতে চান—তবে নির্দল বিধায়ক হিসেবেই। তাঁর এই মন্তব্যে তৃণমূলের অন্দরে জল্পনা তুঙ্গে, তবে কি পুরনো আসন বেহালা পশ্চিম থেকেই আবার ভোটযুদ্ধে নামতে চলেছেন পার্থ?
২০২২ সালের জুলাই মাসে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই ঘটনার মাত্র ছ’দিনের মধ্যেই দলীয় শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তে তাঁকে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হয়। মন্ত্রিত্বও চলে যায় তাঁর। কিন্তু বিধানসভা সূত্রে এখনও তিনি বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক। মঙ্গলবার বাড়ি ফেরার পর তিনি বলেন, “আমি বেহালার মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। যারা আমাকে বারবার জিতিয়েছে, তাদের কাছেই বিচার চাইব।” তাঁর এই বক্তব্যে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি তিনি তৃণমূলের সাসপেনশন না তুললে নির্দল প্রার্থী হিসেবেই ভোটে নামবেন?
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বেহালা পশ্চিমে পার্থ অনুগামীদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। কেউ চোখের জলে ভিজে গিয়েছেন, কেউ বা পোস্টার হাতে লিখেছেন—‘বেহালা পশ্চিমে পার্থদাকে আবার চাই।’ বাইপাসের ধারে হাসপাতাল থেকে নাকতলার বাড়ি ফেরার পথে পার্থকে দেখতে ভিড় জমায় শত শত মানুষ। অনেকের মতে, বেহালা আজও তাঁকে “রূপকার” হিসেবে মনে রাখে। ফলে তাঁর ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া নিয়ে উৎসাহ স্পষ্ট।
তবে এই উচ্ছ্বাসের মাঝেও ভুলে যাওয়া যায় না, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। অর্পিতার দুটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি নগদ টাকা। সেই থেকেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন পার্থ। যদিও অনুগামীদের একাংশের দাবি, “পার্থদার বাড়ি থেকে তো টাকা পাওয়া যায়নি, তাহলে দোষী কেন?”
আরও পড়ুনঃ mur*der case : নিউ টাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিলার হত্যা*য় বিডিওর নাম জড়ালো তদন্তে! দেহ লোপা*ট ও মারধ*রে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি’ – দাবি পুলিশের!
সবশেষে নিজের আক্ষেপের কথাও লুকোননি তিনি। কারাগারে থাকাকালীনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছেন—দলের কোন ধারায় তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল? তাঁর অভিযোগ, “একই অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যদের পাশে দল দাঁড়িয়েছে, আমার বেলায় কেন নয়?” এখন প্রশ্ন একটাই—তৃণমূল কি তাঁকে ফের দলে নেবে, নাকি বেহালার মানুষদের সমর্থন নিয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবেই মাঠে নামবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়? সময়ই তার উত্তর দেবে।





