সোশ্যাল মিডিয়াতে কন্টেন্ট তৈরি করা আজ অনেক তরুণ-তরুণীর পরিচয়ের অংশ। সেই পরিচিতদের এক ছাতার তলায় এনে সরাসরি দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই বীরভূমের সিউড়িতে প্রথমবার আয়োজন করা হয়েছিল কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মিট-আপ। উদ্দেশ্য ছিল পরস্পরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া, পরিচিতি বাড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগ আরও মজবুত করা। কিন্তু সেই প্রত্যাশার ঠিক উল্টো ছবি দেখা গেল সোমবার দুপুরে।
শুরুতেই জায়গায় জায়গায় ভিড় বাড়তে থাকে। ফেসবুক রিলস তৈরি করা বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমানের বহু তরুণ-তরুণী হাজির হয়েছিলেন হাটজনবাজার চত্বরে। ভিড়ের চাপ সামলাতে আয়োজকদের হিমশিম খেতে হয়। একাধিক ক্রিয়েটর জানান, তারা ভেবেছিলেন অনুষ্ঠানটি গোছানো এবং পরিকল্পনা মাফিক হবে, কিন্তু মাঠে গিয়ে দেখেন পরিস্থিতি ঠিক তার উল্টো। তখন থেকেই অনেকে খাবার ও উপহার নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগ উঠেছে, বিরিয়ানি ও মেডেল নিতে গিয়ে কিছু অংশগ্রহণকারী ঠেলাঠেলি শুরু করেন। হাতাহাতির উপক্রমও হয় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনায় হতাশ প্রধান অতিথি ভুবন বাদ্যকর জানান, “ব্যবস্থাপনা ঠিক ছিল না। আরও স্বেচ্ছাসেবক লাগত। আমি তো এক কাপ চা-ও পাইনি। সবাইকে শুধু কাড়াকাড়ি করতে দেখলাম।” তাঁর কথাতেই বোঝা যায় অনুষ্ঠানের অব্যবস্থা কতখানি ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রিপন চৌধুরী জানান, তিনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ই বিশৃঙ্খলার চিত্র নিজের চোখে দেখেছেন। তাঁর মতে, আয়োজকদের উদ্দেশ্য ভালো হলেও পরিকল্পনার অভাবে ভিড় সামলানো যায়নি। আশপাশের দোকানদাররাও বিশৃঙ্খলার কারণে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। বহু দর্শনার্থীই নিরাশ হয়ে মাঝপথেই বাড়ির পথে ফিরেছেন।
আরও পড়ুনঃ Child Rescue : হাসপাতালের ভিড়ে মুহূর্তের ভুল! বিসি রায় শিশু হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ ৬ মাসের শিশু, কীভাবে উদ্ধার করল পুলিশ?
অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক সুরজ মিঞা অবশ্য দাবি করেছেন, “আমরা ক্রিয়েটরদের ভালো চিন্তা করেই আয়োজন করেছিলাম। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার ও মেডেল রাখা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক জনের জন্যই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে একই ধরনের আয়োজন করলে আগের ভুল সংশোধন করে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা রাখা হবে। তবে প্রথমবারেই এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ, হতাশা এবং প্রশ্ন—এমন উদ্যোগ আর কতটা সফল হতে পারে?






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার