দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মানচিত্রে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত, বাণিজ্য, যাতায়াত থেকে শুরু করে সংস্কৃতি—সব ক্ষেত্রেই এই দুই প্রতিবেশী দেশের যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক দিনে পরিস্থিতি যে দিকে মোড় নিয়েছে, তা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক বিশ্বাস নিয়ে। প্রকাশ্যে আসা কিছু হুমকি ও উসকানিমূলক বক্তব্য ঘিরে বাড়তে থাকে উদ্বেগ, যার প্রভাব পড়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যবস্থার উপর।
এই আবহেই বুধবার দুপুর থেকে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে থাকা ভিসা কেন্দ্রের দরজা দুপুর ২টো থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়, এবং কবে তা আবার চালু হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রথমে শুধু ঢাকার কেন্দ্র বন্ধের খবর সামনে এলেও, পরে জানা যায় রাজশাহী ও খুলনার ভিসা সেন্টারও একই দিনে পরিষেবা বন্ধ রেখেছে।
ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা। বাংলাদেশের কয়েকজন নেতার তরফে ভারতের হাই কমিশনে হামলার হুমকি এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য—যাকে ‘সেভেন সিস্টার্স’ বলা হয়—আলাদা করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুঙ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি। ধারাবাহিকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী মন্তব্য ও উসকানিমূলক বক্তব্য সামনে আসার পরই নিরাপত্তার স্বার্থে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
এই ঘটনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ ভিসা আবেদনকারীদের উপর। যাঁদের বুধবার ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে পরবর্তী সময়ে নতুন করে দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে ভিসা সেন্টার বন্ধ থাকায় যাঁরা চিকিৎসা, পড়াশোনা, কাজ বা তৃতীয় দেশে যাওয়ার জন্য ভারতের ভিসার উপর নির্ভর করেন, তাঁদের অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা ভারত হয়ে অন্য দেশের ফ্লাইট ধরেন, তাঁদের সমস্যার মুখে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
আরও পড়ুনঃ Amit Malviya on Newtown fire: নিউটাউনের আগুনে ভোটার রাজনীতি! ‘নাম ফেরাতেই বস্তি পোড়ানো’— মালব্যর বিস্ফোরক অভিযোগে তৃণমূল-বিজেপি-তে মুখোমুখি সংঘর্ষ!
প্রসঙ্গত, এই ঘটনার ঠিক আগের দিনই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ঢাকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মহম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ডেকে পাঠায়। বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং ভারতীয় হাই কমিশনে হামলার হুমকি ও সেভেন সিস্টার্স নিয়ে দেওয়া মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভিসা সেন্টার বন্ধের সিদ্ধান্ত সেই উদ্বেগেরই বাস্তব প্রতিফলন। এখন নজর রয়েছে—এই উত্তেজনার পারদ কত দ্রুত নামানো যায় এবং কবে স্বাভাবিক পথে ফিরবে দুই দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার