RG KAR case : — এগজিকিউটিভ কমিটি নিয়ে মতবিরোধ, আইনি পরামর্শ উপেক্ষার অভিযোগ—WBJDF থেকে ইস্তফা অনিকেত মাহাতোর!

নতুন বছরের শুরুতেই আবারও আরজি কর আন্দোলন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল এক পরিচিত নাম। যে আন্দোলন একদিন জুনিয়র ডাক্তারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখকে ঘিরে এবার প্রশ্ন, মতভেদ আর ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের ইঙ্গিত। বাইরে থেকে দেখলে ঘটনাটি শুধুই একটি পদত্যাগ, কিন্তু এর ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে সংগঠন পরিচালনার টানাপড়েন, নীতিগত সংঘাত এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।

আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ অনিকেত মাহাতো পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের (WBJDF) বোর্ড অফ ট্রাস্টের সভাপতি পদ থেকে নতুন বছরের প্রথম দিনেই ইস্তফা দিয়েছেন। নিজের পদত্যাগপত্রে তিনি সিদ্ধান্তটিকে ‘বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন। অনিকেতের বক্তব্য, সংগঠনের এগজিকিউটিভ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ট্রাস্টের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে তাঁকে বাধ্য করেছে।

ইস্তফাপত্রে অনিকেত স্পষ্টভাবে অভিযোগ তুলেছেন, আইনি পরামর্শকে গুরুত্ব না দিয়েই ট্রাস্টের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক ছাড়া একটি এগজিকিউটিভ কমিটি তৈরি করা হচ্ছিল। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়া ছিল অগণতান্ত্রিক এবং যে আন্দোলন ন্যায়বিচারের দাবিতে শুরু হয়েছিল, তার মূল চেতনার সঙ্গেই অসঙ্গতিপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে একাধিকবার আপত্তি তোলা হলেও তা উপেক্ষিত হয়েছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি ভোটাভুটির মাধ্যমে ৩৭ জন নতুন সদস্যকে নিয়ে একটি এগজিকিউটিভ কমিটি গঠন করা হয়, যা ট্রাস্ট ও কমিটির মধ্যে দায়িত্ববণ্টন নিয়ে নতুন করে সংঘাতের জন্ম দেয়।

পদত্যাগের পর অনিকেত জানিয়েছেন, কমিটির ভোটাভুটির আগেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। তাই ওই কমিটি নিয়ে মন্তব্য করাকে তিনি সমীচীন মনে করেননি। তবে আরজি কর আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনও একক ব্যক্তির নয়, সাধারণ মানুষের সমর্থনেই তা এগিয়েছে। ফ্রন্টকে আর্থিক সাহায্যও দিয়েছেন সাধারণ মানুষই—তাই সংগঠন কীভাবে চলবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ফ্রন্টেরই।

আরও পড়ুনঃ BJP worker: পুজো দেখতে গিয়ে আর ফেরেননি বিজেপি-কর্মী! বাড়ির পাশের পুকুরে উদ্ধার দেহ, খু*নের অভিযোগে উত্তাল এলাকা! নেপথ্যে রাজনীতি?

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার প্রথম সারিতে ছিলেন অনিকেত মাহাতো। ন্যায়বিচার ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সংস্কারের দাবিতে অনশন থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি প্রশ্ন করার সাহসী ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন। আন্দোলনের পর প্রতিহিংসামূলকভাবে তাঁর পোস্টিং বদল করা হলেও, তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যান এবং কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট—দু’টি আদালতই তাঁর পক্ষে রায় দেয়। যদিও সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও আজও তাঁকে কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ইস্তফাপত্রে সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অনিকেত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—পদ ছেড়ে গেলেও আরজি কর কাণ্ডে ন্যায়বিচারের লড়াই থেকে তিনি কোনওভাবেই সরে দাঁড়াবেন না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর