রাজনৈতিক উত্তাপ যখন ক্রমশ চড়ছে, ঠিক সেই সময়েই কলকাতার এক অভিজাত এলাকায় ঘটে গেল এমন একটি ঘটনা, যা স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্য-রাজনীতিতে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা, প্রশাসনের সক্রিয়তা এবং শাসক শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল অস্বাভাবিক। কী ঘটছে, কেনই বা এই তৎপরতা, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল সাধারণ মানুষের মনে।
বৃহস্পতিবার সকালে একটি পুরনো কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলার সূত্র ধরে কলকাতার একাধিক জায়গায় অভিযান শুরু করে ইডি। কিছুক্ষণের মধ্যেই জানা যায়, তালিকায় রয়েছে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার কলকাতা অফিস। খবর ছড়াতেই সেখানে পৌঁছন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। পরে ঘটনাস্থলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর উপস্থিতি ঘিরে পরিস্থিতি আরও রাজনৈতিক রঙ নেয়, শুরু হয় জোর চর্চা।
বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চলে প্রতীক জৈনের আবাসনে। দুপুরের দিকে ইডি আধিকারিকরা সেখান থেকে বেরিয়ে যান। কিছু সময় পরে বাড়ি ছাড়েন প্রতীক জৈনও। কালো কাচে ঢাকা গাড়ি, ভিতরে টানা পর্দা—সব মিলিয়ে তাঁর বেরিয়ে যাওয়া ছিল যথেষ্ট নীরব। সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দেন। পরে জানা যায়, তাঁর গন্তব্য আই-প্যাকের কলকাতা অফিস।
বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। মুখ্যমন্ত্রী সল্টলেকের আই-প্যাক অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছন প্রতীক জৈন ও তাঁর পরিবার। তখনও দফতরের ভিতরে তল্লাশি চলছিল। পরিবার নিয়ে এই সময় অফিসে যাওয়ার কারণ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে না আসায় প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়। বিষয়টি কি কেবল ব্যক্তিগত, না এর নেপথ্যে অন্য কোনও বার্তা—তা নিয়েই জল্পনা।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : ‘দলের প্রার্থিতালিকা ও কৌশল হাতাতে এসেছিল ED’ – IPAC কর্ণধারের বাড়ি থেকে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে গেলেন মমতা! রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক!
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক কৌশলে আই-প্যাকের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসে। ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সাফল্যের সঙ্গে সংস্থার নাম বারবার উঠে এসেছে। সেই সংস্থার দফতরে ইডি অভিযান স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনার প্রকৃত প্রভাব কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য-রাজনীতির।





