রাজ্যে ফের নিপা ভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে দু’জন নার্স নিপায় আক্রান্ত হতে পারেন—এই খবর ঘিরেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নামটা অনেকেই আগেও শুনেছেন, কিন্তু বিপদ যখন কাছাকাছি আসে, তখনই প্রশ্ন বাড়ে—এই রোগ কতটা মারাত্মক, কীভাবে ছড়ায়, আর নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতেই বা কী করবেন? কারণ নিপা মানেই ভয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাছেও যা আজও বড় চ্যালেঞ্জ।
নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে সাধারণ জ্বর, মাথাব্যথা, বমি বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে অনেক রোগী কোমায় চলে যান, ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে শুরু করে। শ্বাসযন্ত্র বিকল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। এই কারণেই মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি—প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয়, এখনও পর্যন্ত এই রোগের কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ বা ভ্যাকসিন নেই। চিকিৎসা মূলত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণেই সীমাবদ্ধ।
এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—নিপা কীভাবে ছড়ায়? অনেকেই ভাবছেন, শুয়োরের মাংস খেলেই কি বিপদ? বিষয়টা এত সরল নয়। চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইরাস সাধারণত সরাসরি মাংস খাওয়ার মাধ্যমে ছড়ায় না। বরং সংক্রামিত প্রাণীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, তাদের লালা, রক্ত, প্রস্রাব বা মলের মাধ্যমেই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢোকে। বাদুড় এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক। তারা ফল বা কাঁচা তালের রসে লালা বা মূত্র ফেললে সেখান থেকেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
তবে শুয়োরের প্রসঙ্গ একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। শুয়োর নিজেরা বাদুড়ের দ্বারা দূষিত ফল বা রস খেয়ে সংক্রমিত হতে পারে। এরপর সেই সংক্রামিত শুয়োরের কাছাকাছি থাকা মানুষ—বিশেষ করে খামারের কর্মীরা—ভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়েন। সংক্রামিত খামার থেকে আসা শুয়োরের মাংস যদি ঠিকভাবে পরীক্ষা বা প্রক্রিয়াকরণ না করা হয়, তাহলে পরোক্ষভাবে সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়। অর্থাৎ সমস্যা মাংস নয়, সমস্যা সংক্রমিত প্রাণী ও দূষণের উৎস।
আরও পড়ুনঃ নিপা ভাইরাস আতঙ্কে বারাসাত, বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি দুই নার্স, দুজনেই ভেন্টিলেশনে
এই কারণেই সতর্কতাই এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র। চিকিৎসকেরা বলছেন, আপাতত শুয়োর পালন ও শুয়োরের মাংস থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ। যে কোনও ফল ভাল করে ধুয়ে খেতে হবে, কাঁচা তালের রস এড়িয়ে চলতে হবে। অসুস্থ প্রাণীর সংস্পর্শে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ভিড় বা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় N-95 মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। বাইরের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। নিপা থেকে বাঁচার একমাত্র পথ সচেতনতা ও সাবধানতা—কারণ এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও নিশ্চিত কোনও প্রতিষেধক নেই।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার