Coal Scam : আইপ্যাক মামলার শুনানির মাঝেই চমক—কয়লা পাচার কাণ্ডে ৯ জায়গায় একযোগে ইডির অভিযান!

রাজ্য রাজনীতিতে মঙ্গলবার সকালটা শুরু হল আবারও টানটান উত্তেজনার আবহে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একের পর এক পদক্ষেপে নতুন করে চর্চায় উঠে এল বহু পুরনো অভিযোগ, পুরনো নাম ও পুরনো প্রশ্ন। এমন এক দিনে এই তৎপরতা শুরু হল, যেদিন দেশের শীর্ষ আদালতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসনিক স্তর—সব জায়গাতেই নজর এখন একদিকেই।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় ফের অ্যাকশন মোডে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, কলকাতা, দুর্গাপুর, আসানসোল, বর্ধমান ও দিল্লি মিলিয়ে মোট ৯টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযান যে শুধুমাত্র রুটিন তল্লাশি নয়, তা প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তদন্তকারীদের গতিবিধিতে। ধাপে ধাপে সামনে আসতে থাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

তদন্ত সূত্রের দাবি, এই মামলায় যাদের বিরুদ্ধে কয়লা পাচার ও টাকা পাচারের যোগ থাকার সন্দেহ রয়েছে, তাঁদের মধ্যেই ৯ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই তালিকায় একটি নাম বিশেষভাবে নজর কাড়ে—বুদবুদ থানার বর্তমান ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল। মঙ্গলবার সকালে তাঁর বাড়িতেও পৌঁছে যান ইডির আধিকারিকরা। অভিযোগ, বেআইনি কয়লা পাচারের বিনিময়ে প্রোটেকশন মানি নেওয়ার পাশাপাশি পাচারকারীদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়েও তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মনোরঞ্জন মণ্ডল মাত্র ২-৩ দিন আগেই বুদবুদ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর আগে তিনি বারাবনি থানার ওসি ছিলেন। সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল, এবং সেই সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ইডির এই হানায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তদন্তের পরিধি কতটা গভীরে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Madhyamik Examination 2026: পরীক্ষা শুরুর মুহূর্তে ভয়ংকর বিস্ফো*রণ, মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনে আতঙ্কে পরীক্ষার্থীরা!

এই তল্লাশি এমন এক সময়ে শুরু হল, যখন আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলায় ইডির দায়ের করা আবেদনের শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি বেআইনি কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরেই ইডি অভিযান চালিয়েছিল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। সেই অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। সেই ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। আর তার মধ্যেই মঙ্গলবারের এই নতুন অভিযান—রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাতকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর