ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। নাম বাদ পড়া, নাম উঠে যাওয়া কিংবা ভুয়ো পরিচয়ে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ—প্রতিবারই কোনও না কোনও প্রশ্ন উঠে আসে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। এবারও তেমনই এক ইস্যু ঘিরে রাজ্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের টানাপোড়েন সামনে এল। কয়েক মাস ধরে ঝুলে থাকা একটি নির্দেশ ঘিরেই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
সূত্রের খবর, রাজ্যের দুই জেলার চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ বহু আগেই দিয়েছিল ইলেকশন কমিশন। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলেই অভিযোগ কমিশনের। তাই এ বার নবান্নকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এতদিন পেরিয়ে গেলেও কেন এফআইআর রুজু হয়নি, তার স্পষ্ট জবাব মেলেনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও ও এইআরও-দের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, বেআইনি ভাবে ‘ভূতুড়ে’ বা ভুয়ো ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস। পাশাপাশি ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের নির্দেশ ছিল। কমিশন তাঁদের নিলম্বিত করে এফআইআর করার নির্দেশ দেয় এবং এ বিষয়ে ৫ ও ৮ অগস্ট রাজ্যকে চিঠিও পাঠায়।
তবে নবান্নের তরফে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট দুই কর্মীকে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরানো হলেও বাকিদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দুই জেলাশাসককে সরাসরি এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয় কমিশন। সিইও দফতর থেকেও দু’দফা স্মরণপত্র পাঠানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট জেনারেলের মতামত নেওয়া হয় এবং জানানো হয়, অভিযোগগুলি এফআইআর করার মতো গুরুতর নয়।
আরও পড়ুনঃ Viral video : ১২ হাজার টাকার উপহার ঘিরে অশান্তি! ভালবাসা না অর্থ— ভাইরাল ভিডিও ঘিরে দাম্পত্যের টানাপোড়েন নিয়ে তুমুল বিতর্ক!
এরই মধ্যে শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে তলব করে কমিশন। কেন নির্দেশ মানা হয়নি, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরের দিনই এ বার নবান্নকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এফআইআর রুজুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক স্তরে এই ইস্যু যে আরও গুরুত্ব পাচ্ছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কী পদক্ষেপ নেয় রাজ্য সরকার।





