পশ্চিম এশিয়ার আকাশে গত কয়েক দিন ধরেই ঘনিয়ে উঠছিল অশনি সংকেত। একের পর এক হুমকি, পাল্টা হুমকি আর সামরিক প্রস্তুতির খবর ঘিরে তৈরি হয়েছিল উদ্বেগের পরিবেশ। আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভাষা ক্রমশ কঠোর হচ্ছিল, আর সাধারণ মানুষের মনে বাড়ছিল আশঙ্কা—আসন্ন সময় কি আরও ভয়াবহ হতে চলেছে? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল রবিবার সকালে, যখন তেহরান থেকে এল চাঞ্চল্যকর ঘোষণা।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei) নিহত হয়েছেন বলে সরকারি ভাবে জানাল তেহরান। আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। দেশজুড়ে টানা ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করার পরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান, আর রেভলিউশনারি গার্ড শোকবার্তায় জানিয়েছে—“আমরা এক অনন্য নেতাকে হারালাম।”
এর আগে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) ঘোষণা করেছিলেন, লক্ষ্যভেদী হামলায় খামেনেই নিহত হয়েছেন। পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সমাজমাধ্যমে একই দাবি করেন। ট্রাম্প লেখেন, ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তির পতন ঘটেছে। যদিও প্রথম দিকে ইরান এই খবর অস্বীকার করেছিল, রবিবার সকালে সরকারি স্বীকৃতির পর আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
শনিবার সকাল থেকে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক বড় শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। হামলার পরপরই ইরান পাল্টা আঘাত হানে। পশ্চিম এশিয়ার যেসব দেশে মার্কিন সেনা ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলিকেও নিশানা করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই ও আবু ধাবিতে বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে। বিশ্বের উচ্চতম ভবন বুর্জ খলিফা খালি করে দেওয়া হয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থায়। কাতার ও সৌদি আরবেও হামলার খবর মিলেছে।
আরও পড়ুনঃ Israel Iran Wa*r : ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বং*সের ঘোষণা ট্রাম্পের, বিদেশ থেকে রেজা পহলভির সমর্থন—মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের ইঙ্গি*ত?
সমগ্র পশ্চিম এশিয়া জুড়ে এখন কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান ইতিমধ্যেই আকাশসীমা বন্ধ করেছে, বহু অঞ্চলে বিমান চলাচল স্থগিত। সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান নাকি সমঝোতা চাইছে, তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরও অন্তত এক সপ্তাহ বোমাবর্ষণ চলবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে—তা নিয়েই এখন উদ্বিগ্ন বিশ্ব।






