বাংলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মানেই দর্শকের উচ্ছ্বাস আর শিল্পীদের প্রাণভরে পারফরম্যান্স। তবু মাঝেমধ্যেই এমন কিছু ঘটনা সামনে আসে, যেখানে শিল্পীদের সম্মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ঠিক তেমনই এক নতুন বিতর্ক ঘিরে আবার আলোচনায় উঠে এলেন জনপ্রিয় গায়ক শিলাজিৎ মজুমদার (Silajit Majumder)। একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়েই তিনি ক্ষোভ উগরে দেন আয়োজক ও পুলিশের আচরণের বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, একজন শিল্পী হিসেবে তাঁকে এমনভাবে মঞ্চ ছাড়তে বলা হয়েছে যা অত্যন্ত অসম্মানজনক।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ঘটনাটি ঘটেছে পয়লা পার্বণ উৎসব (Poyla Parbon Festival) নামের এক সাংস্কৃতিক উৎসবে। এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল বইমেলা প্রাঙ্গণে। চারদিন ধরে চলা এই উৎসবে বাঙালির সংস্কৃতি, খাবার, হস্তশিল্পের পাশাপাশি ছিল একাধিক সঙ্গীতানুষ্ঠান। দর্শকদের জন্য মঞ্চে পারফর্ম করার কথা ছিল একাধিক জনপ্রিয় শিল্পী ও ব্যান্ডের। সেই তালিকায় নামকরা ব্যান্ডদের সঙ্গে ছিলেন শিলাজিৎ মজুমদার নিজেও। ফলে শুরু থেকেই উৎসবটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট উচ্ছ্বাস ছিল।
তবে অনুষ্ঠানের মাঝপথেই তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। জানা যায়, ১২ মার্চ খারাপ আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠানের সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়। সেই কারণে কিছু শিল্পীর পারফরম্যান্স পিছিয়ে যায়। পরে ১৩ মার্চ রাতে মঞ্চে ওঠেন শিলাজিৎ। তিনি গান শুরু করার পর দর্শকদের মধ্যে দারুণ সাড়া পড়ে। কিন্তু অভিযোগ, রাত এগারোটার সময়সীমা ঘিরে আচমকাই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। গায়কের দাবি, নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁকে মঞ্চ ছেড়ে নামতে বলা হয় এবং পুলিশের পক্ষ থেকে হাতের ইশারায় স্টেজ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ঘটনাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন শিলাজিৎ। দর্শকদের সামনে দাঁড়িয়েই তিনি তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এত বছর ধরে মানুষ তাঁর গান শুনছেন ও ভালোবাসছেন। তাই একজন শিল্পীকে এভাবে অপমান করে নামিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলের বোমা সামলাতে যাঁরা সক্ষম হন, তাঁদের কাছে এমন একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সামলানো কঠিন হওয়ার কথা নয়। তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ঘটনাটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ PM Narendra Brigade Rally : “‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর সঙ্গে এবার ‘সবকা হিসাব’”— ব্রিগেডের মঞ্চে হুঙ্কার নরেন্দ্র মোদীর! ১৮ হাজার ৮৬০ কোটির সড়ক-রেল-বন্দর প্রকল্পের উদ্বোধন, আরজি কর-সন্দেশখালি প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী!
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হতে দেখে শেষ পর্যন্ত গায়ক আবেগঘন সুরে দর্শকদের উদ্দেশে জানান, বাকি গান তিনি অন্য কোথাও শোনাবেন। এরপরই তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যান। ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং শুরু হয় নানা আলোচনা ও বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বাংলার মাটিতেই কেন বারবার বাংলার শিল্পীদের এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। এই ঘটনার পর আবারও শিল্পীদের সম্মান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





