আধ্যাত্মিকতার আড়ালে কী ভয়ংকর অন্ধকার লুকিয়ে থাকতে পারে, তা মাঝে মাঝেই সামনে আসে এমন কিছু ঘটনায়। বিশ্বাস, ভরসা আর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষ কীভাবে অন্যকে শিকার বানায়, সেই বাস্তব ছবিটাই আবার সামনে এল মহারাষ্ট্রে। এক তরুণীর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, যেখানে ‘দেবতার অবতার’ দাবি করে এক ব্যক্তি তাঁকে ফাঁদে ফেলেছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে, পুণের বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় ঋষিকেশ বৈদ্য নামে এক ব্যক্তির। ধীরে ধীরে কথাবার্তা বাড়তে থাকে, আর সেই সুযোগেই বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে অভিযুক্ত পুণেতে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে দেখা করে। সেখান থেকেই শুরু হয় এক ভয়ংকর প্রতারণার চক্র, যা প্রথমে বোঝাই যায়নি।
তরুণীর অভিযোগ, ঋষিকেশ নিজেকে ‘মহাদেবের অবতার’ বলে দাবি করে এবং তাঁকে ‘পার্বতী’ বলে বিশ্বাস করাতে থাকে। এই বিশ্বাসকে হাতিয়ার করেই মানসিকভাবে প্রভাবিত করা হয়। এরপর এক লজে নিয়ে গিয়ে তাঁকে মাদক খাইয়ে অচৈতন্য করা হয় বলে অভিযোগ। সেই অবস্থায় তাঁকে ধর্ষণ করা হয় এবং গোপনে আপত্তিকর ছবি তোলা হয়, যা পরে ব্ল্যাকমেলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
অভিযোগ আরও গুরুতর হয় যখন জানা যায়, গত বছরের মে মাসে ভাসাইয়ের একটি হোটেলে ডেকে আবারও যৌন হেনস্তার চেষ্টা করা হয়। অবশেষে সাহস জুগিয়ে ওই তরুণী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অপরাধ পুণেতে ঘটায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ নথিভুক্ত করে মামলাটি হড়পসর থানায় পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুনঃ “আমার সুপারহিট ছবি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তৈরি হয়েছিল ওই হিন্দি ছবি” দাবি টলি অভিনেত্রী শতাব্দী রায়ের! জানেন, কোন সেই ছবি যা ঝড় তুলেছিল সিনেমাপ্রেমীদের মনে?
নির্যাতিতার দাবি, এই ব্যক্তি একাধিক মহিলাকে একইভাবে প্রতারণা করেছেন। সম্প্রতি নাসিকে আরেক ভণ্ড জ্যোতিষীর গ্রেফতারের ঘটনা সামনে আসার পরই তিনি অভিযোগ জানানোর সাহস পান। ওই ঘটনায়ও ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে বহু মহিলাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—আধ্যাত্মিকতার আড়ালে এমন অপরাধ কতদিন অজানাই থেকে যায়? এই ঘটনার তদন্ত যত এগোবে, ততই হয়তো আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসবে।






