রাজনীতির মঞ্চে উত্তাপ নতুন কিছু নয়, কিন্তু কখনও কখনও সেই উত্তাপ এমন জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে ভয়ের ছায়া ঢেকে দেয় সবকিছু। ঠিক তেমনই এক ঘটনা ঘিরে এখন তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাঁকুড়ার একাংশে। দিনের আলোয়, লোকালয়ের মধ্যেই যা ঘটেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা, দুটোকেই কেন্দ্র করে।
শুক্রবার বাঁকুড়া শহরের স্কুলডাঙ্গা এলাকায় একটি হলঘরে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের বৈঠক ছিল। বৈঠক শেষ হওয়ার পর কয়েকজন নেতা, যার মধ্যে ছিলেন ভাস্কর ঘোষও, কাছেই একটি জায়গায় বসেছিলেন বলে জানা যায়। সেই সময় পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিকই। কিন্তু আচমকাই বদলে যায় সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে শান্ত পরিবেশে নেমে আসে অশান্তির ঝড়।
অভিযোগ, প্রায় ৪০ জন দুষ্কৃতী হঠাৎ করে সেখানে হামলা চালায়। তাঁদের হাতে ছিল লাঠি, হকি স্টিকসহ বিভিন্ন অস্ত্রসদৃশ বস্তু। টার্গেট করা হয় সংগঠনের নেতা অরিন্দম মণ্ডলকে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়, বিশেষ করে মাথা ও মুখ লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়। ঘটনায় গুরুতর জখম হন তিনি এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন ঘটনাস্থলেই।
সহকর্মীরাই শেষমেশ অরিন্দমকে উদ্ধার করে নিয়ে যান বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভাস্কর ঘোষ দাবি করেছেন, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এক ছাত্রনেতার নেতৃত্বে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং হামলাকারীদের হাতে দলীয় পতাকা লাগানো লাঠিও ছিল।
আরও পড়ুনঃ ভোটের মুখে নাকতলায় ইডির হানা! কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়! ফের কি গ্রেফতারের পথে তিনি?
যদিও সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছে শাসকদল। তাদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে একটি বৈঠক শেষে এমন সংগঠিত হামলা কীভাবে সম্ভব হল? নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি? নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক সমীকরণ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখন খুঁজছে বাঁকুড়ার মানুষ।






