সুশান্ত অস্বাভাবিক মৃত্যু তদন্ত: পাটনার পুলিশ সুপার মুম্বাইয়ে পৌঁছতেই জোর করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠালো মহারাষ্ট্র সরকার

সুশান্ত সিং রাজপুত এর অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা তদন্ত নিয়ে মুম্বাই পুলিশের একের পর এক পদক্ষেপ রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে সকলকে। বিহার পুলিশের তদন্তকারী দলের অভিযোগ তাঁদেরকে মুম্বাই পুলিশের তরফ থেকে বার বার বাঁধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের এই অভিযোগ যে একেবারে অমূলক নয় তা ফের আরেকবার প্রমাণ হলো। গতকালই জানা গিয়েছিল যে পাটনা সেন্ট্রাল এর পুলিশ সুপার বিনয় তিওয়ারি বিহার থেকে মুম্বাই এসে পৌঁছেছেন এই ঘটনার তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন বলে। বিহার পুলিশের তরফ থেকে চার সদস্যের দল এসেছিলেন তাঁদেরকে নেতৃত্ব দিতেন বিনয়। আজ জানা গেল যে মুম্বাইয়ে পৌঁছতেই বিনয়কে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে দিয়েছে বিএমসি। অভিযোগ তাঁকে প্রায় একরকম জোর করেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ‌

রবিবার রাতে বিহার পুলিশের ডিজিপি গুপ্তেশ্বর তিওয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তে আজ মুম্বই পৌঁছেছেন আইপিএস অফিসার বিনয় তিওয়ারি, তিনি অফিশিয়াল ডিউটি করতে ওখানে গিয়েছিলেন কিন্তু মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে তাঁকে জোর করে কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে রাত এগারোটা নাগাদ।

জানা গিয়েছে, বিনয় তিওয়ারিকে আইপিএস মেসেও জায়গা দেওয়া হয়নি। তাকে গোরেগাঁও তে একটি গেস্ট হাউসে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসপি বিনয় তিওয়ারিকে। ভিন রাজ্য থেকে আসার কারণেই করোনা সংক্রান্ত বিধি মেনে তাঁকে আগামী ১৪ দিন ঘরবন্দি থাকতে হবে, বলে জানায় বিএমসি।

যদিও এক সপ্তাহ আগেই পাটনা থেকে যে চার সদস্যের তদন্তকারী দল মুম্বাইতে গিয়েছিল তাদের কিন্তু কোয়ারেন্টাইনে রাখেনি মহারাষ্ট্র সরকার। এখানেই রহস্য বাড়ছে। মুম্বাই পুলিশের একের পর এক ও সহযোগিতার কথা সামনে উঠে আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের তীব্র সন্দেহ মুম্বাই পুলিশের সঙ্গে এই ঘটনার অপরাধীদের সরাসরি যোগ রয়েছে তাই মুম্বাই পুলিশ বিভিন্ন রকম ভাবে ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে যাতে এই রহস্যের কোনদিনও সমাধান না হয়।

এর আগে রবিবার দুপুরে পাটনা পুলিশের তদন্তকারী দল মুম্বাই পুলিশের কাছে সুশান্তের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের অস্বাভাবিক মৃত্যু রহস্যের কেস ফাইল চাইলে তা তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে মুম্বাই পুলিশ জানায় যে কেস ফাইল ডিলিট হয়ে গেছে ভুলবশত, উদ্ধার করা যাচ্ছে না। এছাড়াও জানা গিয়েছে যে সুশান্তের বান্দ্রার ফ্ল্যাট যেখানেই অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছিল সেটা এখনো সিল করতে পারেনি মুম্বাই পুলিশ। ফলে সকলেই মনে করছেন যেটুকু যাও বা প্রমাণ ছিল সবই ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। এছাড়াও রিয়া চক্রবর্তীর কাছে সুশান্ত সিং রাজপুতের যে ল্যাপটপ ছিল তাও সিজ করেনি পুলিশ। এছাড়া হঠাৎ করে সুশান্ত সিং রাজপুতের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট(?) যেভাবে মিডিয়ার সামনে এসে এখন বলছেন সুশান্তের বাইপোলার ডিসঅর্ডার ছিল তাও খটকা জাগিয়েছে অনুরাগীদের মনে।

ফলে সুশান্ত সিং রাজপুতের অস্বাভাবিক মৃত্যু রহস্য ক্রমশই জট পাকাচ্ছে এবং এর মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে বিহার ও মহারাষ্ট্র সরকার। ইতিমধ্যেই এই মামলার জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সুশান্তের বাবা বিহারে এফআইআর দায়ের করেছিলেন। ‌ তার পাল্টা চাল হিসাবে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করেন রিয়া চক্রবর্তী, তাঁর দাবি এই মামলা আইনগত অধিকারক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে না তাই কোনওভাবেই এই মামলার তদন্ত করতে পারেনা পাটনা পুলিশ। রিয়ার দাবি সমর্থন করে আদালতে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে উদ্ধব ঠাকরে সরকারও।

অন্যদিকে পাল্টা ক্যাভিয়েট দায়ের করা হয়েছে সুশান্তের বাবা কেকে সিং এবং নীতিশ কুমার সরকারের তরফে। আগামী বুধবার এই মামলা সুপ্রিম কোর্টের শুনানি। ‌ এখন গোটা দেশ শীর্ষ আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছে।

আরও অন্যান্য খবর