এবার কোঝিকোড়ের বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। চালকের বুদ্ধির জোরে সেদিন বেঁচে গেছিলেন অনেকেই। ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ের আগেই বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়েছিলেন বিমান চালক। আর তাতে খাদে পড়ে প্লেন ভেঙে দু’টুকরো হলেও আগুন লাগার হাত থেকে বেঁচে যায়। কেরলের কোঝিকোড়ের বিমান দুর্ঘটনার পর এমনটাই জানা যাচ্ছে সূত্রে।
শুক্রবার রাত ৭.৪২ নাগাদ কেরলের কোঝিকোড় বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করতে গিয়ে বিমানটি রানওয়ের দেওয়াল ভেঙে নীচে খাদে গিয়ে পড়ে এবং দু’টুকরো হয়ে যায়। সূত্রের খবর, বিমানের ভাঙা অংশ এখনও ওই অবস্থাতেই রয়েছে। তবে বিমানবন্দরের ওই অংশে বেশি মানুষের যাতায়াত নেই। দেওয়ালের একদম কাছে রয়েছে প্লেনের ককপিট অর্থাৎ যেখানে চালক এবং বিমানসেবিকারা থাকেন এবং তার সাথে কিছু প্যাসেঞ্জার সিট। আর তার থেকে ১০-২০ মিটার দূরে পড়েছে প্লেনের বাকি অংশ।
শুক্রবার বৃষ্টির মধ্যে যখন বিমান চালক বিমাটিকে ল্যান্ড করাতে যান তখন বিমানে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে ল্যান্ডিং এর সময় বিমানটি না থেমে দ্রুতবেগে ছুটে গিয়ে ৩৫ ফুট উঁচু টেবিল টপ রানওয়ের ওপর থেকে নিচে খাদে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় ১৮ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন যার মধ্যে বিমানের চালক এবং সহকারী চালকও রয়েছেন।
এই দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে বলা হচ্ছে বিমান চালক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে ল্যান্ডিং এর সময় ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যার ফলে প্লেনে আগুন লাগেনি। সেদিন দুবাই থেকে কেরালাগামী প্লেনে ১৯০ জন যাত্রী উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০০ জন আহত হয়েছেন। প্রসঙ্গত, জানা গেছে সেদিন প্লেনের ব্রেকও কাজ করছিল না। কিন্তু বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার দরুন ওতো ওপর থেকে বিমানটি পড়ার সময় তাতে যথেষ্ট জ্বালানি মজুত থাকলেও তাতে আগুন লাগেনি কোনোভাবে।
এই দুর্ঘটনায় বিমানচালক নিজের প্রাণ দিয়েও বহু যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। আর কোঝিকোড়ের বিমানবন্দরের এই ছবি স্পষ্ট করে দিচ্ছে সেদিন কি ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিল এখানে।





