লাদাখ থেকে সেনা সড়াচ্ছে না অবাধ‍্য বেজিং! তাই এবার অর্থনৈতিকভাবে শায়েস্তা করার পথে ভারত

চীনকে বিশ্বাস করা বড়‌ই কঠিন। মুখে অনেক আশ্বাস দিলেও কার্যক্ষেত্রে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও নড়েনা বেজিং। আর তাই লাদাখের অনেক জায়গা থেকেই এখন‌ও নড়ার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না চীনের লাল ফৌজ। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কীভাবে অর্থনৈতিক ভাবে জিনপিং-এর দেশকে শায়েস্তা করা যায়, এবার সেই দিকেই নজর ভারতের।

লাদাখের প্যাংগং সো হোক বা গোগরা-হট স্পিংস অঞ্চল, কোন‌ও অঞ্চল থেকেই চীনা সেনা কিছুতেই এপ্রিলের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে রাজি নয়। সরকারি সূত্র মারফত খবর, চীন স্টাডি গোষ্ঠীর সোমবার বৈঠক ছিল। সেখানে লাদাখ ও আকসাই চীনে লাল ফৌজের গতিবিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ আমলারা বেজিং-এর সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের গতিপথ ঠিক করে। আলোচনায় কথা হয়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সীমান্তের সমস্যা, দুটিকে আলাদা করে দেখা হোক। কিন্তু এই দাবি মানতে নারাজ ভারত। সীমান্তে চীন যদি লাল চক্ষু দেখায় ভারতও যেভাবে সম্ভব সেটা রুখবে বলে ঠিক করেছে। বর্তমান সময়ে চীনা সেনা লাদাখে গোগরা-হট স্প্রিংসে নিজেদের জায়গায় গ্যাঁট হয়ে বসে আছে। প্যাংগং সো লেকেও ফিংগার ৪-এ গ্রিন টপে রয়েছে লাল ফৌজ।

এই কারণে ভারতীয় সেনাও ফরওয়ার্ড পজিসনে প্রস্তুত হয়ে বসে আছে। ৫ জুলাই দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধি সীমান্তে পুরো সেনা সরানোর কথা বললেও কার্যক্ষেত্রে কিছু সেনা হটায়নি লাল ফৌজ।

তাই এবার চীনকে উপযুক্ত জবাব দিতে চীনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নিয়েছে ভারত। দেশে চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করা থেকে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজে চীনা সংস্থাদের দূরে রাখা, মোদী সরকার এভাবেই বেজিং-কে বেকায়দায় ফেলতে চাইছে। অন্যদিকে আমেরিকাও চীনা সংস্থাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাই এটি স্পষ্ট যে অদূর ভবিষ্যতে ভারতও চীনা সংস্থাদের বরাত দেবে না বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

সীমান্তে সমস্যার সমাধান না হলে তার জের যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর পড়বেই, সেটা চীনকে বুঝিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর ভারতীয় সরকার।

RELATED Articles

Leave a Comment