চীনকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ, সাপ্লাই চেইন তৈরি করছে ভারত-জাপান-অস্ট্রেলিয়া

চীনকে রীতিমতো ঘুরপথে শেষ করতে এবার বদ্ধপরিকর ভারত। সেইসঙ্গে সহযোগী হিসাবে এবার যোগ দিতে চলেছে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের দাদাগিরি নিয়ে বরাবরই সরব ভারতসহ অন্যান্য দেশ। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা নৌবাহিনী যেভাবে দাপাদাপি শুরু করেছিল তাতে আমেরিকা থেকে দুটি রণতরী পাঠিয়ে তাদেরকে ঠান্ডা করা হয়েছে। এবার দক্ষিণ এশিয়ায় চীনা বাণিজ্যের মনোপলি রুখতে একজোট হল ভারত-জাপান-অস্ট্রেলিয়া। সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, রফতানি ক্ষেত্রে চিনা আধিপত্য কমাতে এবার শক্তিশালী সাপ্লাই চেন খুলতে পারে ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। এ জন্য তারা একটি সাপ্লাই চেন রেসিলিয়েন্স ইনিশিয়েটিভ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে জাপান চিরকালই উৎসাহী। এ ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। অস্ট্রেলিয়া এখনো এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে নারাজ এবং ভারত সরকার এই পরিকল্পনাটি খতিয়ে দেখছে। এছাড়াও আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত সম্প্রতি কোয়াড্রিল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ বা কোয়াড নামে একটি গ্রুপ খুলেছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার জন্য।

বর্তমানে চীনের সঙ্গে যেভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংঘাত বাড়ছে তাতে বহু সংস্থা চীন থেকে বেরিয়ে এসে অন্যান্য দেশে নিজেদের কারখানা বা অফিস খুলতে চাইছে। মার্কিন-চীন সম্পর্কের তিক্ততা অথবা ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘাত এই কাজকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

বিশ্বে বর্তমানে প্রধান সমস্যা করোনাভাইরাস। যার উৎস হল চীন। সেই কারণে চীনের ওপর ক্ষিপ্ত গোটা বিশ্ব আবার ভেন্টিলেটর বা মাস্কের মত অত্যাবশ্যক জিনিসপত্রের জন্যও চীনের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে বিভিন্ন দেশকে।

ফলে এই নির্ভরতা কাটাতে এখন কোম্পানিগুলি অন্য রাস্তা দেখছে। জাপানের তরফ থেকে কিছু সংস্থাকে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা তাদের অফিস জাপানে নিয়ে আসে অথবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করে। এখনও পর্যন্ত ৮৭টি সংস্থা এতে যোগ দিয়েছে, এ জন্য খরচ হচ্ছে ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গালওয়ান উপত্যকা চীনের সঙ্গে সংঘাত বাঁধার পর ভারত কড়া হাতে চীনকে দমন করার প্রক্রিয়া শুরু করে। চীনা সংস্থাগুলিকে কোন টেন্ডার দেওয়া হচ্ছে না, চীনা দ্রব্য আমদানি করার ক্ষেত্রে জারি হয়েছে কঠোর বিধি নিষেধ এবং ৫৯টি চীনা অ্যাপ ভারত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যান করে দেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া মূলত বার্লি,গোমাংস এবং ওয়াইন রপ্তানি করে থাকে। চীন সেই মার্কেটে হাত দিয়েছে সম্প্রতি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চীনের ওপর ক্ষোভ বেড়েছে অস্ট্রেলিয়ার। ফলে চীনের অবস্থা এখন অত্যন্ত শোচনীয়। শুধুমাত্র পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রাখতে পেরেছে তারা। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিকে হাত করে নিলেও সেই দেশের শাসক দলকে নিজের অধীনে আনতে পারেনি চীন। যদিও যেভাবে বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলি একের পর এক চীনা বিরোধিতা শুরু করেছে তাতে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, চীনের মার্কেটে টিকে থাকা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আরও অন্যান্য খবর