নতুন কৃষি আইন নিয়ে এখ সারা দেশ উত্তাল। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকেরা। বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও, এখনও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় তারা। দাবী, কৃষি আইন সংশোধনের, ও এই আইন প্রত্যাহারের। এই সবকিছুর মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন উঠে আসে যে, এই কৃষি আইন নিয়ে গোটা দেশবাসী কী ভাবছেন? তারা কী এই আইনকে সংস্কারের চোখে দেখছেন? এই নিয়ে ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার ৪১২ জনের উপর একটি সমীক্ষা চালায় সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম। এই সমীক্ষাতেই দেখা গিয়েছে যে অনেকেই মনে করছেন নতুন এই কৃষি আইন কৃষক স্বার্থবিরোধী নয়। এই আইনের ফলে উপকৃত হবেন কৃষকেরাই।
কেন্দ্র সরকারের এই আইনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বামেরা। অথচ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে বাম রাজ্য কেরলেই অনেকে চাইছেন কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার আসুক। জানা গিয়েছে, কেরল, ওড়িশা ও বিহারে সমস্ত উত্তরদাতাদের মধ্যে যথাক্রমে ৯৬.৫৯ শতাংশ, ৮৫.৫ শতাংশ, ও ৮৪.৮৭ শতাংশ এই কৃষি আইনের পক্ষে। হরিয়ানার মোট অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮০ শতাংশ চাইছেন সংস্কার। তবে পঞ্জাবে ছবিতা খানিক অন্য। সেখানকার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৬.৩৬ শতাংশ মানুষ কৃষি আইন নিয়ে অন্যরকম বার্তা দিয়েছেন। ৫৩.৬ শতাংশ মানুষ এই আইনের পক্ষে রায় দিয়েছেন ও ৩০.৬ শতাংশ মানুষ এই আইনকে সমর্থন করেননি। আবার ১৬.৪ শতাংশ মানুষ এই ব্যাপারে ঠিক নিশ্চিত নন।
কেন্দ্র থেকে বারবারই দাবী করা হয়েছে যে কৃষক আন্দোলনে রাজনীতির রং লাগছে। আন্দোলনকারীদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। সমীক্ষায় দেখা গেল, এই মতকে অনেকেই স্বীকার করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৮.৭১ শতাংশই বিশ্বাস করেন যে এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত। তবে ৩২.৫৯ শতাংশ মানুষ এই মতে বিশ্বাসী নন।
সমীক্ষায় জানা গিয়েছে যে ৫২.৬৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে এই আইন বাতিলের জন্য কৃষকদের চাপ সৃষ্টি অমূলক। আবার ৬০.৯০ শতাংশ মানুষ ভাবেন যে এই নতুন আইনের দ্বারা কৃষকেরা ফসলের ভালো দাম পেতে পারবেন।
অন্যদিকে, এমএসপি অব্যাহত থাকবে, এমন লিখিত আশ্বাসের সরকারের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন ৫৩.৯৪ শতাংশ মানুষ। আবার আগাছা পোড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যে দাবী উঠছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে, তাতেও সায় দেননি অধিকাংশই। সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে অংশগ্রহণকারীদের অন্তত ৬৬.৭১ শতাংশ চাইছেন যে এই নতুন আইন কোনওভাবেই বাতিল হওয়া উচিত নয়।






