ভারতবর্ষের ৯টি রাজ্যে হিন্দুদের সংখ্যালঘু মর্যাদা দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বিভিন্ন হাইকোর্টে মুলতুবি রয়েছে একাধিক আবেদন। হাইকোর্টের সেই আবেদনগুলিকে সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তর করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনোরিটিজ অ্যাক্ট, ১৯৯২-এ যে বিধানগুলি মেনে দেশে সংখ্যালঘুদের মর্যাদা দেওয়া হয়, সেগুলি বাতিল করা হোক। এমনটাও অনুরোধ করা হয়েছে, আইনটি যদি ধরে রাখা হয় তা হলে ৯টি রাজ্য, যেখানে হিন্দুরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছেন, সেখানে হিন্দুদের রাজ্য-ভিত্তিক সংখ্যালঘুর মর্যাদা দেওয়া উচিত। যাতে ওই রাজ্যগুলির হিন্দুরা সংখ্যালঘুদের সুবিধা পান L
বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায়ের দায়ের করা ওই আবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার সংখ্যালঘু আইনের ধারা ২ (সি)-এর অধীনে মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ এবং জৈনদের সংখ্যালঘু হিসাবে ঘোষণা করেছে, কিন্তু সেখানে ইহুদিদের সংখ্যালঘু হিসাবে ঘোষণা করেনি। আরও বলা হয়েছে যে দেশের ৯টি রাজ্যে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হলেও তাঁরা সংখ্যালঘুদের সুবিধা পাচ্ছেন না।
আবেদনে বলা হয়েছে, লাদাখ, মিজোরাম, লক্ষদ্বীপ, কাশ্মীর, নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, অরুণাচলপ্রদেশ, পঞ্জাব এবং মণিপুরে জনসংখ্যার নিরিখে হিন্দুরা সংখ্যালঘু। আবেদনকারী বলেছেন, এই রাজ্যগুলিতে সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে হিন্দুদের সংখ্যালঘুদের সুবিধা পাওয়া উচিত। কিন্তু সেই সুবিধা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করে সেই রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠকেই তা দেওয়া হচ্ছে।
আবেদনকারীর দাবি, এমন পরিস্থিতিতে ভাষাগত ও ধর্মের ভিত্তিতে রাজ্য ভিত্তিক ভাবে সংখ্যালঘুদের মর্যাদা দেওয়া উচিত। অর্থাৎ, এটাকে রাজ্য- ভিত্তিক বিবেচনা করা উচিত। সুপ্রিম কোর্টে এমন নির্দেশ দেওয়া হোক, যাতে সংখ্যালঘুদের মর্যাদা ভাষা ও ধর্মের ভিত্তিতে এটা রাজ্য পর্যায়ে হতে পারে।
অশ্বিনী উপাধ্যায়ের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আবেদন করার আগেই, ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার শুনানি অস্বীকার করে শীর্ষ আদালত। সে বার আবেদনকারীকে দিল্লি হাইকোর্টে যেতে বলা হয়েছিল। আবেদনকারী বলেছেন যে, দিল্লি হাইকোর্ট, মেঘালয় হাইকোর্ট, গুয়াহাটি হাইকোর্টের এই সম্পর্কিত একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সেগুলোকে সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তর করা উচিত।
আবেদনকারীর যুক্তি, বিভিন্ন হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলা থেকে বিভিন্ন রকমের পর্যালোচনা আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টেই মামলার শুনানি হওয়া উচিত। আর এই প্রসঙ্গেই ৯টি রাজ্যে হিন্দুদের সংখ্যালঘু মর্যাদা দেওয়া উচিত বলেও দাবি করা হয়েছে।





