গতকাল প্রকাশিত হয়েছে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। ফলাফল থেকে স্পষ্ট যে সাধারণ মানুষ তৃণমূলকে বেছে নিয়েছেন তৃতীয়বারে ক্ষমতায় বসার জন্য। তবে আশ্চর্যজনকভাবে এই বছর ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে বাম দল। এবার তাদের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে বাস্তব জগতে।
বর্তমানে করোনা বাংলায় চরম শিখরে পৌঁছেছে। সেখান থেকে দাঁড়িয়ে বামেদের ছাত্র-যুবদলের এসএফআইয়ের সদস্যরা রেড ভলেন্টিয়ার্স নামে সংগঠিত হয়ে রাজ্যের সমস্ত এলাকায় করোনা রোগীদের সাহায্যার্থে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ভোটের ফল বেরোবার পরেই চিত্রটা বদলে যায়। তারা সাধারণ মানুষকে আর সাহায্য করতে নারাজ। এরকম অনেক ঘটনার কথাই সামনে উঠে আসছে যেখানে রেড ভলেন্টিয়ার্সরা মুখের উপর বলে দিচ্ছেন আমরা পারবোনা।
সম্প্রতি দমদমের ২১ নং ওয়ার্ডে এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি পরিবারের সবাই করোনা পজিটিভ এবং পরিবারের একমাত্র ছেলে ব্যাঙ্গালোরে থাকে যে বর্তমানে বাড়ি আসতে পারছেনা। বাড়িতে খাবার এবং মুদিখানা দ্রব্য পৌঁছাবার জন্য কেউ নেই।
এমতাবস্থায় সেই পরিবারের লোকজন দমদমের রেড ভলেন্টিয়ার্সদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কিন্তু তারা জানিয়ে দেয় যে তারা পারবে না। এখানেই উঠছে প্রশ্ন। রেড ভলেন্টিয়ার্স হয়ে যারা গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রাণপণ পরিশ্রম করে মানুষকে অক্সিজেন থেকে বেড, খাবার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করে দিচ্ছিলেন তারা হঠাৎ বেঁকে বসলেন ফল প্রকাশের পর?
সোশ্যাল মিডিয়াতেও এসএফআইয়ের সদস্যদের ক্ষোভের বার্তা আছড়ে পড়ছে। প্রকাশ্যেই সবাই বলছেন, “আমরা আর সাহায্য করতে পারব না কারণ বামেদের তো আপনারা ভোট দেননি।” অনেকে কমেন্ট করেছেন, “শুধুমাত্র বামপন্থী পরিবারকে সাহায্য করা উচিত।”
এখন প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলের লোভেই মানুষের সেবা করার উদ্দেশ্যে ব্রতী হয়েছিলেন রেড ভলেন্টিয়ার্সরা? ভোটের ফল দেখেই তারা মানুষের পাশ থেকে সরে যাচ্ছেন, মানুষকে বেইমান বলছেন। তাহলে এরপরেও কি তাদের কোনদিনও আর ক্ষমতায় আসার আশা থাকবে? প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মনে।





