রাত গ্যায়ি বাত গ্যায়ি? বিজেপির একাধিক বৈঠকে আসছেন না বেশিরভাগ পরাজিত প্রার্থী!

ভোট পূর্ববর্তী হুংকার, তর্জন-গর্জনই সবই ছিল। বাংলার মসনদে বসার স্বপ্ন‌ও ছিল দুচোখে। কিন্তু আপামর বাঙালির সিদ্ধান্তে আপাতত বাংলার গদি রইল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই। ২০০ পার করার স্বপ্ন তো বহুদূর, ৭৭ টি আসন পেয়েই বাংলায় থামতে হলো বিজেপিকে। দুই সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক এবং জগন্নাথ সরকার বিধায়কপদ ছেড়ে দেওয়ায় বিধানসভায় বিজেপি-র শক্তি আরও কমে ৭৫।

জানা যাচ্ছে এই পরিস্থিতিতে দলের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে একাধিক বৈঠকের আয়োজন করা হলেও তাতে সাড়া দিচ্ছেন না বেশিরভাগ পরাজিত প্রার্থীরা।

আরও পড়ুন- মহামারীর দ্বিতীয় বছর প্রথম বছরের চেয়ে আর‌ও মারাত্মক! সতর্ক হন, সাবধান বাণী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র

যেমন গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার হেস্টিংসে দলের দফতরে বৈঠকে ডাকা হয়েছিল সব পদাধিকারী ও প্রধান নেতাদের। কিন্তু সেখানে দেখা মেলেনি অনেকের‌ই। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপর্যয়ের পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বাংলার দায়িত্বে এসেছেন বিজেপির অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ। তবে শুক্রবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী–সহ অন্যান্যরা।

জানা গেছে এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে ডাক পেয়েও উপস্থিত থাকেননি জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, লকেট চট্টোপাধ্যায়, রথীন বসুরা। বঙ্ঘ বিজেপিতে সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন ১২ জন। তাঁদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন হাজির ছিলেন শুক্রবারের বৈঠকে। ১০ জন রাজ্য সম্পাদকের অনেকেই হেস্টিংস অফিসের ধারেকাছেও আসেননি।  ডাক পেলে‌ও উপস্থিত থাকেননি বিধাননগরের পরাজিত প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত। গরহাজির ছিলেন দলবদলু নেতা ডোমজুড়ে পরাজিত রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য বিজেপির এক প্রথমসারির নেতার দাবি, ‘‌নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এঁদের অনেকেই আর কোনও বৈঠকেই আসছেন না। অনিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছেন ভারতী ঘোষ‌ও।

ভোট-পরবর্তী এই নেতাদের হাবভাবে মানুষের সেবা করার ইচ্ছেটুকু‌ও আর নেই বলেই দেখা যাচ্ছে।

তবে অনুপস্থিত নেতা-নেত্রীদের বিষয়ে মুখ খুলেছেন প্রদেশ অধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষ। ‌‌‌‌‌তাঁর কথায় , ‘‌করোনাভাইরাসের বাড়বাড়ন্তে অনেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন। আবার অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আবার কোথাও কোথাও সন্ত্রাস হচ্ছে, যার ফলে তাঁরা এলাকা ছেড়ে কলকাতায় আসতে পারছেন না। কর্মীদের সামলাচ্ছেন। তবে সকলেই দলের যোগাযোগের মধ্যে রয়েছেন।’‌

কিন্তু এবার প্রশ্ন‌ উঠছে এখন করোনার দোহাই দিলে নির্বাচনের সময় যখন করোনা সংক্রমণে অনেকে আক্রান্ত হচ্ছিলেন তখন নির্বাচনের দফা কমাতে রাজি হননি বিজেপি নেতারা‌ই।

বাংলায় এই বিপুল পরিমান করোনা সংক্রমনের কিছুটা দায় তো তাঁদের উপরও বর্তায়। সেই প্রশ্নের জবাব কে দেবে?

আরও অন্যান্য খবর