‘চরম দুর্নীতি জিটিএ-তে, পাহাড়বাসীর কোনও উন্নতি হয়নি, অডিট হবে’, উত্তরবঙ্গ সফর শেষে দাবী রাজ্যপালের

গত সপ্তাহেই উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সাতদিনের সফর শেষে উত্তরবঙ্গের জিটিএ-র দুর্নীতি নিয়ে সরব হলেন তিনি। আজ, সোমবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে থেকে কলকাতা ফেরার আগে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন জগদীপ ধনখড়।

এই সাংবাদিক সম্মেলনেই তিনি দাবী করেন যে গত কয়েকবছর ধরেই জিটিএ অর্থাৎ গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে কোনও অডিট হয়নি। এই কারণে তিনি সিএজি-কে দিয়ে অডিট করাতে চান বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর আরও অভিযোগ জিটিএ যে কারণে তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। বছরের পর বছর ধরে কোনও উন্নতি হয়নি পাহাড়বাসীদের।

আরও পড়ুন- বিধানসভায় বিরোধী বেঞ্চেই বসতে চলেছেন মুকুল রায়, নজির গড়তে চলেছে বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাস

২০১৭ সালে বিমল গুরুং-এর আবেদন মেনে উত্তরবঙ্গে জিটিএ তৈরির অনুমতি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড়বাসীর উন্নতির লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। জিটিএ-তে কে কোন পদে বহাল হবে, তা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক হয়। এটি একটি স্বশাসিত সংস্থা। এই সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দিষ্ট নির্বাচনের দ্বারাই নির্বাচিত হওয়ার কথা।

কিন্তু দেখা গিয়েছে যে তা হয়নি। ২০১৭ সালের পর থেকে নানান জটিলতার কারণে এই সংস্থার জন্য কোনও নির্বাচন হয়নি। ফলত, এই সংস্থার চেয়ারম্যান পদে কখনও বিমল গুরং, কখনও বিনয় তামাং আবার বর্তমানে অনীত থাপা বসেছেন। এই মুহূর্তে প্রশাসক বোর্ড কাজ করছে এখানে।

উত্তরবঙ্গে নিজের সাতদিনের সফরে দার্জিলিং-এর রাজভবনে ছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন সেখানকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। জগদীপ ধনখড়ের দাবী যে, এদের সকলের সঙ্গে কথা একটা বিষয় নিশ্চিত যে এই কয়েকবছরে পাহাড়বাসীর উন্নতি হয়নি।

তাঁর দাবী, যে কারণে জিটিএ তৈরি হয়, সেই কারণই সফল নয়। কোনও নির্বাচন বা অডিট কিছুই হয়নি। এই কারণে তিনি নিজে সিএজি-কে দিয়ে করাতে চান বলেও জানান রাজ্যপাল। এদিনের বৈঠকে তিনি বলেন, “এই দাবী যুক্তিপূর্ণ। অবশ্যই জিটিএ-র অডিট হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি বছর উন্নয়নের জন্য টাকা পাঠায়। কিন্তু রাজ্য সরকারের কর্মী, আধিকারিকরা তা নয়ছয় করেন আর উন্নয়নের কাজ হয় না কিছুই”।

আরও পড়ুন- বাড়ল বাস ভাড়া, এবার থেকে বাসে উঠলেই দিতে হবে দশ টাকা! দেখে নিন নতুন ভাড়ার তালিকা 

অন্যদিকে, জিটিএ নিয়ে এই দুর্নীতি মানতে নারাজ এই সংস্থার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনীত থাপা। তাঁর দাবী, “প্রতি বছর অডিট হয়েছে। পাহাড়ে অনেক উন্নয়নের কাজ করেছি আমরা। উনি অডিট করাতে চাইলে করান, আমাদের কোনও অসুবিধা নেই। সব হিসেব পেয়ে যাবেন”। তবে প্রশ্ন উঠেছে যে সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাজ্যপালের জিটিএ অডিট করানোর অধিকার আছে কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারেন, কিন্তু এর বেশি কিছু করা সংবিধান বিরোধী।

RELATED Articles