রদবদলের আগেই মন্ত্রিত্ব হারালেন বাবুল সুপ্রিয়, সাংসদের নানান কাজকর্মে ক্ষিপ্ত কেন্দ্র সরকার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রীসভায় রদবদল আসন্ন। কিন্তু এর আগেই মন্ত্রিত্ব খয়ালেন আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। তাঁকে রাজ্যের কাজের জন্যই নিযুক্ত করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। এই কারণেই বাবুল সুপ্রিয়কে একুশের নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছিল।

কিন্তু তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের কাছে একেবারেই টিকতে পারেননি তিনি। টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে হেরেছেন বাবুল। তাই সাংসদ থাকলেও এবার আর মন্ত্রী থাকবেন না তিনি। এখন সাংসদ হয়েই কাজ করতে হবে বাবুলকে। তবে তাঁর জায়গায় কে মন্ত্রিত্ব পাবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন- নন্দীগ্রাম মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ, ৫ লক্ষ টাকার জরিমানা মমতার

বাবুল সুপ্রিয় দু’বার লোকসভা ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছেন। আজ, বুধবার সন্ধ্যেবেলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল হবে। এর আগে একের পর এক মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন, শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক এবং দেবশ্রী চৌধুরী। দেখা যাচ্ছে, বাংলার দুই মন্ত্রীই মন্ত্রিত্ব হারালেন। তাদের জায়গায় কারা মন্ত্রী হবে, এই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

বাংলা থেকে মন্ত্রী হওয়ার জন্য এখনও পর্যন্ত ৬ জনের নাম উঠে এসেছে, নিশীথ প্রামাণিক, শান্তনু ঠাকুর, লকেট চট্টোপাধ্যায়, দীনেশ ত্রিবেদী, জগন্নাথ সরকার ও সুরিন্দর সিং আহলুওয়ালিয়া। তবে এদের মধ্যে নিশীথ প্রামাণিক ও শান্তনু ঠাকুরের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এদিকে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ এহ্ন সম্পূর্ণ ঠিক হয়নি, এরই মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনের পদত্যাগ সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাছাড়া জানা গিয়েছে, আসানসোলে বাবুলের বিরোধী সংগঠন তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বাবুলের নামে নালিশও জমা পড়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর সেখানকার সংগঠনে কার্যত ধস নেমেছে। নেতারা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। আর সেক্ষেত্রে টুইট করা ছাড়া বাবুলের আর কোনও কাজই করার ছিল না।

আরও পড়ুন- ‘এবার বাবাকে বলো কর্মসূচী নিন’, শুভেন্দুকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য পার্থর, শাসক-বিরোধী তরজায় উত্তাল বিধানসভা

এও জানা গিয়েছে যে বাবুলের নানান কাজকর্মে বেশ অসন্তুষ্ট কেন্দ্রীয় সরকার। তিনি নিজেও যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছিলেন। সব মিলিয়েই মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হয়েছে বাবুলকে।

এদিকে, পদত্যাগ করেছেন শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাঙওয়ার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য থাওয়ারচাঁদ গেহলটকে কর্ণাটকের রাজ্যপালের পদে নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক ছেড়েছেন রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক। আবার পদত্যাগ করেছেন রসায়ন ও সার মন্ত্রী সদানন্দ গৌড়াও। সব মিলিয়ে যে দেশে বড়সড় রদবদল হতে চলেছে, তা বেশ স্পষ্ট।

আরও অন্যান্য খবর