কাবুল দখলের পরই স্বমহিমায় ফিরেছে তালিবানরা। ভারতীয় দূতাবাসে লুটপাট চালাতে শুরু করেছে তারা। একদিকে যখন প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে হাক্কানি গোষ্ঠীর প্রধান আনাস হাক্কানি দেখা করে, ঠিক সেই সময়ই অন্যদিকে কান্দাহারে ভারতীয় দূতাবাসের গাড়ি দখল করল তালিবানরা।
আফগানিস্তান কব্জা করার পর এখন আবুলের দায়িত্বে রয়েছে এই হাক্কানি গোষ্ঠীই। এই গোষ্ঠীর প্রধান আনাস হাক্কানি গত ১৮ই আগস্ট দেখা করেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে। এদিন ক্ষমতা হস্তান্তরের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আগের সরকারের মুখ্য শান্তিদূত আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ।
এদিনের এই বৈঠকের শেষে কারজাই জানান যে আফগান মানুষদের জীবন ও নিরাপত্তা সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তালিবানরা জানায় যে শহরে নিরাপত্তার জন্য ইতিমধ্যেই তারা লোক নিয়োগ করেছে। আগামী দিনেও এই নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে তালিবানরা।
এসবের মধ্যেই কান্দাহারে মুল্লাহ ইয়াকুব সরকারের থেকে ক্ষমতা নেওয়া প্রস্তুতি করছে বলে জানা যাচ্ছে। তালিবানের প্রতিষ্ঠাতা মুল্লাহ ওমারের পুত্র হলেন এই মুল্লাহ ইয়াকুব। ইতিমধ্যেই কান্দাহারে ভারতীয় দূতাবাসের গাড়ি দখল করা হয়েছে বলে খবর। বেশ কিছু জরুরী নথিপত্রও তাদের দখলে চলে গিয়েছে বলে জানা যায়। শুধু কান্দাহারই নয়, হেরাতেও দূতাবাসে হানা দেয় তালিবানরা। সেখানেও নানান নথিপত্র খুঁজছে তারা।
ভারত সরকারের তরফে আটকে পড়া ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জো বাইডেন জানিয়েছেন যে মার্কিন বাসিন্দাদের সুরক্ষিতভাবে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে আগামী ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত মার্কিন সেনারা আফগানিস্তানেই থাকবে।
আরও পড়ুন- ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্ত করবে সিবিআইয়ের ৪টি বিশেষ দল, নিযুক্ত ২৪ আধিকারিক
জো বাইডেন জানিয়েছেন, বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীকে উদ্ধারকাজ চালাতে আফগানিস্তানের বাসিন্দারা সাহায্য করেছে। মার্কিন দূতাবাসগুলি ফাঁকা করার ক্ষেত্রেও তারা সহযোগিতা করছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানে থাকাকালীন মার্কিন সেনাকে যেসমস্ত আফগান নাগরিক সাহায্য করেছিল, তাদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাইডেন। তাঁর আশঙ্কা, তারা আফগানিস্তানে থেকে গেলে তালিবানদের প্রতিশোধের মুখে পড়ে তাঁদের প্রাণের ঝুঁকি থাকবে।





