বাবুল সুপ্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু তবুও দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর বাকযুদ্ধ যেন শেষ হওয়ার নয়। সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে নানানভাবে আক্রমণ চলছেই। বুধবার বাবুলের বক্তব্য আবার আরও একবার জল্পনা উস্কে দিল। দিলীপ ঘোষ নিজেও যদিও এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল। কিন্তু তিনি নিজে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান নি।
গতকাল, বুধবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি নেতাদের একাংশের সমালোচনা করেন। এদের মধ্যে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। বাবুল কীভাবে তাঁকে আক্রমণ করেছেন, তা তিনি নিজেও জানেন। কিন্তু এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান নি দিলীপ।
আরও পড়ুন- দলীয় কর্মীকে হামলা, পিটিয়ে খুন, পুলিশের জালে বিধায়ক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা
তবে দিলীপ নিজে কিছু না বললেও, তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল কিন্তু বাবুলের এই সমালোচনার উচিত জবাব দিয়েছেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাবুলকে বিজেপির তরফে প্রার্থী করা হয় টালিগঞ্জ থেকে। সেখানে হেরে গিয়েছেন তিনি। এদিকে আবার তাঁর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে মাত্র দুটিতে জিতেছে বিজেপি, কুলটি ও আসানসোল দক্ষিণ।
বাবুলের দাবী, সাতটির মধ্যে মাত্র তিনটি কেন্দ্রে প্রার্থী মনোনয়ন করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে দুটিতে গেরুয়া শিবির জিতেছে। এই বিষয়ে দিলীপ ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, “প্রার্থী মনোনয়নটাই শেষ কথা নয়। উনি তো ভাল প্রার্থী। তা হলে টালিগঞ্জে হারলেন কেন? নিজের লোকসভা এলাকায় তিনি কি সঠিক দায়িত্ব পালন করেছেন? করলে দলের এমন পরিণতি হত না। মানুষের সঙ্গে মিশেছেন মন্ত্রী হিসেবে।নেতা হতে পারেননি কর্মীদের কাছেও। মণ্ডল স্তরের কমিটি ঠিক করতে চেয়েও ওঁর কাছে তালিকা চেয়ে পাওয়া যায়নি”।
এই বিষয়ে দিলীপের ঘনিষ্ঠ এক রাজ্যনেতার বক্তব্য, “বাবুলদা চিরকাল টুইট-রাজনীতি করেছেন। মাঠে নেমে রাজনীতি কাকে বলে উনি জানেন না। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের সময় তো ওঁকে কর্মীদের পাশে দেখা যায়নি। কেউ একটা ছবিও দেখাতে পারবে না! উনি আমাদের দলের একমাত্র সাংসদ, যাঁর নামে লোকসভা এলাকায় কর্মীরাই নিরুদ্দেশের পোস্টার লাগিয়েছে। যিনি রাজনীতিটাই করেননি, তাঁর মুখে রাজনীতি ছাড়ার কথা শুনলে ঘোড়াও হাসবে”।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বাবুল বিজেপির আগামীদিনের রক্ষাকর্তা বলে দাবী করেছেন। তাঁর এমন মন্তব্যেও বেজায় চটেছে দিলীপ শিবির। এক নেতার কথায়, “রাজনীতি ছেড়ে কি উনি এ বার রাজনৈতিক জ্যোতিষী হতে চাইছেন। উনি গান গাইতে পারেন ভাল। ভবিষ্যৎ বক্তা হিসেবে তো কোনও পরিচয় শোনা যায়নি। কে বিজেপি-কে যোগ্য নেতৃত্ব দেবেন, সেটা বিজেপি-ই ঠিক করে নেবে। ওঁকে ভাবতে হবে না”।
তবে বাবুলের একটি অভিযোগের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন দিলীপ ঘোষের শিবির। জেলার নেতাদের পাশাপাশি নানান বৈঠকে তাঁর কথাও যে শোনা হয়নি, একথা বলেছেন বাবুল। তাঁর কথায়, “আমি প্যাশনেটলি, হৃদয় দিয়ে দলটা করেছি ২০১৪ সাল থেকে। আমার চরম বিরোধীরাও আমার আন্তরিকতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নিশ্চয়ই তুলবে না। অন্য সকলের মতো আমারও একটা মতামত আছে। কিন্তু যখনই দলের বৃহত্তর স্বার্থে আমি সেটা প্রকাশ করেছি, তখনই অপ্রিয় হয়েছি। কারণ, আমি অপ্রিয় সত্যি কথা বলেছি এবং সেটা পিছনে না বলে দলের বৈঠকগুলোতে স্পষ্ট করে বলেছি”।
আরও পড়ুন- ভুয়ো আইনজীবীর পরিচয়, লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলেন কলকাতার বিজেপি নেত্রী, গ্রেফতার পুলিশের
বাবুলের এই মন্তব্যের সমর্থন করেছেন দিলীপ শিবিরের অনেকেই। এই বিষয়ে এক নেতার বক্তব্য, “দলের বৈঠকে জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজ্য নেতাদের অনেকের কথাই শোনা হয়নি বলে যে অভিযোগ, তা অনেকাংশে সত্যি। কিন্তু সেটা বাবুলদা করতে পারেন না। এটা হাস্যকর অভিযোগ। কারণ, উনি তো কোনও বৈঠকেই থাকতেন না। মোদী হাওয়ায় ভোটে জিতেই মন্ত্রী হয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে সুবিধা ভোগ করা, দামি হোটেলে থাকা ছাড়া দলের কোনও কাজেই তাঁকে কোনও দিন পাওয়া যায়নি”।





