সদ্যই শেষ হয়েছে চার পুরনিগমে নির্বাচন। ফলাফলও প্রকাশ হয়েছে আর তাতে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। পুরভোটে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। আজ, বুধবার দু’টি মামলার শুনানি ছিল আদালতে। বিজেপির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করার যে নির্দেশ আদালত দিয়েছিল, তা মানা হয়নি। বিজেপির তরফের আইনজীবী রঞ্জিত কুমার আদালতে সওয়াল করেন যে পুরভোটে সন্ত্রাস হয়েছে। তাই বিজেপি চায় যে আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারি বাকি ১০৮টি পুরসভা ভোটে আদালত যাতে হস্তক্ষেপ করে।
আজ বুধবার আদালতে তিনি সওয়াল করেন যে বিধাননগরে প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের নামেও ভোট পড়েছে। বিধাননগরে ভোটপ্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগের কথা তুলে এই উদাহরণ টানেন তিনি। এর পাশাপাশি, ভোটে অশান্তি নিয়ে নানান সংবাদপত্রে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তাও আদালতের সামনে তুলে ধরেন বিজেপি-র আইনজীবী।
বিজেপি দাবী জানায় যে বাকি ১০৮ পুরভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। সিসিটিভি অডিট, নিরপেক্ষ জেনারেল অর্বজার্ভার, নিরপেক্ষ মাইক্রো-অবজার্ভর থাকতে হবে। এর পাশাপাশি ১০৮টি পুরসভায় তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগের স্বপক্ষে বিরোধী একটি তালিকা আদালতে জমা দেয় বিজেপি।
তবে এদিকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে আদালতে জানানো হয় যে ভোট আবহে যারা নিরাপত্তা চেয়েছেন, তাদের তা দেওয়া হয়েছে। এও বলা হয় নানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করেছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দাবী, কিছু সংবাদপত্রে ভোটে কয়েকটি অশান্তির কথা বলা হয়েছে।
এর আগে বিজেপির তরফে আদালতে অভিযোগ করা হয় যে তাদের প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে মনোনয়নও জমা দিতে পারেননি। আবার যে বিরোধী প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন, পরে হুমকির মুখে পড়ে তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।
এও অভিযোগ করা হয় যে হাইকোর্টেরই এক আইনজীবী বিধাননগর পুর নির্বাচনে ভোট দিতে মার খেয়েছেন। আজ, বুধবার সমস্ত পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য এবং কমিশনের কাছে তিন দিনের মধ্যে হলফনামা চেয়েছে। এর পাশাপাশি, চার পুরনিগমের ইভিএম সংরক্ষণ করার কথাও বলে আদালত। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।






