তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলের সঙ্গে বিজেপি নেত্রীর দশ বছরের প্রেম, সহবাসের পরও অন্য মেয়েকে বিয়ে প্রেমিকের, পুলিশের দ্বারস্থ নেত্রী

দীর্ঘ দশ বছরের প্রেম তাদের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠেছিল শারীরিক সম্পর্কও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রেম পরিণতি পায়নি। অভিযোগ, প্রেমিকাকে ছেড়ে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে প্রেমিক। আর সেই শোকে হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন প্রেমিকা।

এরপর অবশ্য সেই প্রেমিক তথা তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেত্রী। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ তোলেন তিনি। কালনা থানার এমন অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, কালনার পুরভোটের বিজেপির প্রার্থীর সঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলে ইন্দ্রনীল বসুর দীর্ঘ দশ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিজেপি নেত্রীর দাবী করেন যে ২০১৫ সালে তাঁদের বিয়েতে অভিযুক্তর মা তথা বর্তমানে তৃণমূলের কাউন্সিলর কল্পনা বসু মতও দিয়েছিলেন।

তবে হঠাৎ কল্পনাদেবী অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেই সময় বিয়ে তখন স্থগিত হয়ে যায়। তবে এরপরও তাঁর ও ইন্দ্রনীলের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্কই ছিল। তিনি এমনও দাবী করেন যে তারা দুজন একে অপরের বাড়িতেও যাতায়াত করতেন।

বিজেপি নেত্রীর অভিযোগ, মাস ছয়েক আগে হঠাৎ করেই ইন্দ্রনীল তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপরই তিনি জানতে পারেন যে ইন্দ্রনীল নাকি অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেছেন। ইন্দ্রনীলের বৌভাতের দিন হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বিজেপি নেত্রী। হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। এরপর তিনি পুলিশে অভিযোগ জানান।

বিজেপি নেত্রী ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, “ইন্দ্রনীল বসু বাড়িতে আসা যাওয়া করত। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বারংবার শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করেও এখন তা অস্বীকার করছে। ওদের বাড়িতে গেলে মা ও ছেলে দুজনেই খারাপ কথা বলে। থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে”।

এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে যোগাযোগ করা ইন্দ্রনীলের সঙ্গে। সেই সময় তাঁর মা কল্পনাদেবী ফোন ধরেন ও এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবী করেন। তাঁর কথায়, “আমার কাছে কোনও অভিযোগ আসেনি। আর যিনি অভিযোগ করছেন তিনি পুরসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী ছিলেম। আমি তৃণমূলের কাউন্সিলর। কোনও বিরোধী দলের মদতে আমার চরিত্র হনন করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক চক্রান্ত”।

এই ঘটনায় কালনা থানার এক পুলিশ অফিসার বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে কেস রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে”।

RELATED Articles