একুশের নির্বাচনের সময় শেষ তাঁকে দেখা যায় রাজ্যে। বিজেপির (BJP) হয়ে ময়দানে নেমেছিলেন তিনি। এর পর একবছরেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। কিন্তু তাঁকে আর রাজনীতি বা বাংলায় দেখা যায়নি। তবে গতকাল, সোমবার মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty) কলকাতায় (Kolkata) আসার পর থেকেই একটি জল্পনা বারবার উঁকিঝুঁকি মারছিল যে তিনি কী তাহলে এবার সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেবেন!
গতকাল কলকাতায় এসে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন মিঠুন চক্রবর্তী। এরপর সাংবাদিক বৈঠকে জানান যে দল তাঁকে একটা বড় দায়িত্ব দিয়েছে। মিঠুনের কথায়, “দল আমাকে এখন বড় দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব আমি পালন করব। বিজেপি বিধানসভায় ৩ থেকে বেড়ে ৭৭ হয়েছে। আমি খুশি”। তবে বিজেপির তরফে তাঁকে ঠিক কী দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিতভাবে কিছু জানান নি মহাগুরু। এই নিয়ে বিজেপির তরফেও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মিঠুন চক্রবর্তীকে পরমাণু বোমার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন যে মিঠুন চক্রবর্তী হেভিওয়েট তারকা প্রচারক। যুদ্ধে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় প্রয়োগ করা হবে সেই অস্ত্রকে। যুক্তি দিয়ে সুকান্ত বলেন, “যুদ্ধে সর্বক্ষণ পরমাণু বোমা ব্যবহার করা হয় না। প্রথমে হ্যান্ড গ্রেনেড দিয়ে কাজ চালানো হয়। পরমাণু বোমার নির্দিষ্ট সময় থাকে”।
তবে সুকান্তর এই যুক্তি মেনে নিতে নারাজ বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সৌগত রায়। তাঁর কথায়, “বাংলায় মিঠুনের কোনও প্রভাব নেই। বলিউডে পায়ের তলায় মাটি সরে যাওয়ায় উটিতে গিয়ে হোটেল খুলেছিলেন মহাগুরু। ওসব কাজই মানায় তাঁকে। একটা দল থেকে সব সুবিধা নেওয়ার পর দল পরিবর্তন করেন যারা, তারা আবার বাংলায় কী পরিবর্তন আনবেন”।
বলে রাখি, একুশের নির্বাচনের আগে মিঠুন চক্রবর্তীকে বিজেপিতে এনে চমক দেয় গেরুয়া শিবির। সেই সময় বিজেপির হয়ে বাংলার নানান প্রান্তে প্রচারও করেছিলেন তিনি। তবে বিজেপির রাজ্য দফতরে একবারও দেখা যায়নি তাঁকে। তিনি বিজেপির জাতীয় সমিতির সদস্য। তবে গত এক বছরে বঙ্গ রাজনীতি তো নয়ই, জাতীয় রাজনীতিতেও দেখা মেলেনি মিঠুন চক্রবর্তীর।





