‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন রয়েছেন, কেউ পৃথক রাজ্য করার সাহস দেখাতে পারবে না’, ধূপগুড়ি সভা থেকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee) এখন দার্জিলিংয়ে। মমতার এই উত্তরবঙ্গ সফরের কিছুদিন আগেই উত্তরবঙ্গে (North Bengal) পৃথক রাজ্যের দাবী তুলে মমতাকে হুঁশিয়ারি শানায় কেএলও (KLO)। এবার ধূপগুড়িতে (Dhupguri) সভা করতে গিয়ে উত্তরবঙ্গে পৃথক রাজ্যের দাবী জানানো সকলকে একরকম চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

গতকাল, মঙ্গলবার ধুপগুড়ি পুরসভার মাঠে এক সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা উত্তরবঙ্গের নাম করে বাংলাকে ভাগ করতে চায় তাদের আজ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে যাচ্ছি। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন ততদিন এখানে কেউ পৃথক রাজ্য করার সাহস দেখাতে পারবে না”।

অভিষেক বলেন যে উত্তরবঙ্গ কথাটায় তাঁর ঘোর আপত্তি রয়েছে। তিনি বলেন, “লোকজন কথায় কথায় বলে উত্তরবঙ্গ। উত্তরবঙ্গ কথাটা আমরা শুনতে ভালো লাগে না। ধুপগুড়িতে সভা করব শুনেই মিডিয়ায় খবর হল, উত্তরবঙ্গ সফরে অভিষেক। কেন? আমি যখন ঝাড়গ্রামে, হলদিয়া, ব্যারাকপুরে সভা করি তখন তো আপানারা লেখেন না দক্ষিণবঙ্গ”!

সকলকে একরকম আশ্বস্ত করে অভিষেক বলেন, “কথা দিচ্ছি এখানে এমন তৃণমূলের সংগঠন গড়ব যে এর পরের বার সাংবাদিকরা লিখবেন ধুপগুড়ি সফরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরাজ্যে উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গ বলে কিছু হয় না। এরাজ্যে একটাই বঙ্গ, তা হল পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূলের অভিধানে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি রয়েছে, উত্তরবঙ্গ বলে কিছু নেই। বিজেপির যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে বাংলা ভাগ করার চক্রান্ত করে দেখাও। যদি কড়ায়গন্ডায় জবাব না দিই তাহলে আমার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়”।

অভিষেক বলেন, “রাস্তায় আসার সময়ে একটা হাট ঘুরে দেখলাম। মানুষজন তাদের মতামত, দাবির কথা জানালেন। দেখলাম মানুষের মধ্যে আজও তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে উন্মদনা রয়েছে। আমার বলতে বাধা নেই যে মানুষ তৃণমূলের জন্য দরজা খুলে বসে রয়েছে। আমরা ওদের কাছে পৌঁছতে পারছি না। সেই জায়গাটা নিচ্ছে বিজেপি। যারা তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে মুখ ঘুরিয়েছেন তাদের কাছ আমি ক্ষমা চাইতে এসেছি”।

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের সংযোজন, “এখন নির্বাচন নেই। আমি ভোট চাইতে আসিনি। তৃণমূল কংগ্রেস ভোটের পাখি নয়। আমি বারেবারেই বলেছি বহিরাগতরা আসে, বহিরাগতরা যায়। বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়। গত বছর জানুয়ারি মাস থেকে ভোটের জন্য যারা উত্তরবঙ্গে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করেছিল তাদের এই ১৪ মাস পরে আর দেখা নেই। কিন্তু পাশে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা স্পষ্ট বলেছেন, আপনার দুঃখে আপনার পাশে গিয়ে দাঁড়াবে তৃণমূল কংগ্রেস”।

RELATED Articles