সে কী কথা! পূর্বাভাস ভুল হওয়ার জের, চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হল দুই আবহাওয়া বিশেষজ্ঞকে

অনেকেই মজা করে অনেক সময় বলে থাকেন যে যেদিন আবহাওয়া দফতরের তরফে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়, সেদিন বাড়ি থেকে ছাতা ছাড়াই বেরোনো যায়। আবার যেদিন শুকনো আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকে, সেদিন অবশ্যই ছাতার প্রয়োজন। তবে বর্তমানে সেই রসিকতা একটু কমেছে। কারণ উন্নত প্রযুক্তির ফলে এখন আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস খুব একটা ভুল হয় না।

উন্নত প্রযুক্তির ফলেই ঝড়বৃষ্টি, তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস ঠিকঠাক মোটামুটি মিলে যায়। কিন্তু এমন সময়ে দাঁড়িয়েও ভুল পূর্বাভাসের জন্য চাকরি খোয়াতে হল দুই আবহাওয়া বিশেষজ্ঞকে। ঘটনাটি ঘটেছে হাঙ্গেরিতে।

সূত্রের খবর, সে দেশে জাতীয় ছুটির দিনে আকাশ জুড়ে আতশবাজির প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করেছিল সরকার। কিন্তু সেদেশের আবহাওয়া সংক্রান্ত জাতীয় সংস্থা ‘ন্যাশনাল মেটেরোলজিক্যাল সার্ভিস’ তথা এনএমএসের দুই শীর্ষকর্তা পূর্বাভাস দেন যে ওইদিন নাকি প্রবল ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এর জেরে সমস্ত পরিকল্পনা বাতিল করতে হয় সরকারকে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, নির্দিষ্ট দিনে কোনও ঝড়বৃষ্টি কিছুই হল না। এরপরই দেশের প্রযুক্তিমন্ত্রী লাজলো পালকোভিক্স এনএমএসের দুই শীর্ষকর্তা প্রেসিডেন্ট কর্নেলিয়া র‍্যাডিক্স ও তাঁর সহকারী গুয়েলা হর্ভাথকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেন। কোনও রকমের কারণ না দেখিয়েই তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের দানিয়ুব নদীর তীরে মজুত করা হয়েছিল ৪০ হাজার আতশবাজি। পরিকল্পনা ছিল ৫ কিমি বিস্তৃত এলাকায় ২৪০টি পয়েন্ট থেকে ওই আতশবাজি ছোঁড়া হবে। কিন্তু এরপরই হাওয়া অফিসের তরফে জানানো হয় যে ওইদিন সন্ধে ৯টা থেকেই প্রবল ঝড় হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এর জেরে সমস্ত পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।

দেশের সংবাদমাধ্যমের তরফে ওই সংস্থার উপর ক্ষোভ উগড়ে দেওয়া হয়। এনএমএস ন্মের ওই সংস্থা সকলের কাছে এই ভুলের জন্য ক্ষমা চায়। এও জানানো হয় যে এই ধরণের পেশায় অনিশ্চয়তা থেকেই থাকে। চলতি সপ্তাহের শেষে ফের আতশবাজির প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হয়েছে হাঙ্গেরি সরকারের তরফে। সেদিন সত্যি সত্যিই না ঝড়বৃষ্টি হয়, এখন সেই প্রার্থনাই করছেন সেদেশের বাসিন্দারা।

আরও অন্যান্য খবর