গতকাল, বুধবার ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলকাতার রাস্তা। চাকরিপ্রার্থীদের (TET aspirants) বিক্ষোভের জেরে উত্তেজনা তৈরি হয় এক্সাইড মোড়ে। এদিন এক চাকরিপ্রার্থীকে এক পুলিশকর্মীর (police) কামড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে তীব্র ধিক্কার জানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
আজ, বৃহস্পতিবার নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সরকার ও পুলিশকে তোপ দাগেন মেদিনীপুরের সাংসদ। তাঁর কথায়, “সরকার সবাইকে কামড়াচ্ছে। অথৈ জলে পড়েছে। ডিএ নেই। ধর্না চলছে। চাকরি নেই। বেতন নেই”। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “কিছুক্ষণের জন্য মুড চেঞ্জ করার জন্য ওঁ কখনও চেন্নাই যাচ্ছেন। কখনও দার্জিলিং যাচ্ছেন। সব কিছু হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। আর সামলানোর ক্ষমতা নেই”।
চাকরিপ্রার্থীদের উপর পুলিশি অভিযান নিয়েও বেশ ক্ষোভ উগড়ে দেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, “পুলিশ তৃণমূলের ক্যাডার। পুলিশের প্রতি মানুষের ব্যবহারও পাল্টে যাচ্ছে। মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে। সহ্যের সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। পুলিশকে দিয়ে তোলা তলানো হচ্ছে। গরুর টাকা উঠছে। পুলিশের কাজ কি আমরা ভুলে গেছি”।
উল্লেখ্য, গতকাল, বুধবার চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের জেরে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কলকাতা। এদিন দুপুরের পর চাকরিপ্রার্থীরা আন্দোলন করেন রবীন্দ্র সদনের এক্সাইড মোড়ে। সেখানে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশের গাড়ির চাকার নিচে মাথা পেতে শুয়ে পড়েন অনেক আন্দোলনকারী। তাদের টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ।
আবার এর কিছুক্ষণ বাদেই ক্যামাক স্ট্রীটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান চাকরিপ্রার্থীরা। সেখানে আন্দোলনরত এক চাকরিপ্রার্থীর হাতে কামড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এক পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে। চাকরিপ্রার্থীর নাম অরুণিমা। যদিও ওই পুলিশকর্মী কামড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এদিকে, অরুণিমাকে চিকিৎসার জন্য না নিয়ে গিয়ে তাঁকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় আটক করে রাখা হয়। সেই সময় অসুস্থ বোধ করেন তিনি। তাঁর চিকিৎসার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেন সহযোদ্ধারা।
অভিযোগ, প্রাথমিক পর্যায়ে অরুণিমার চিকিৎসা করাতে রাজি হয় না পুলিশ। অভিযোগ আরও বড়। চাকরিপ্রার্থীদের দাবী, “একজন অফিসার বলেন ওঁ যদি মারা যায় সেই দায় আমরা নেব…”। পরে অবশ্য ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো হয় আক্রান্ত অরুণিমার।






