শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তিনি যেসমস্ত পর্যবেক্ষণ করেছেন, তা সর্বজন বিদিত। তাঁর নানান মন্তব্যে একাধিকবার বিতর্কও তৈরি হয়েছে বটে। রাজ্যের শাসক দলকেও নানান সময় তোপ দেগেছেন তিনি। এবার সেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখেই উঠে এল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা।
শুধু তাই-ই নয়, এদিন বিচারপতি আরও জানান যে তিনি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের কথা বেশ ‘এনজয়’ করেন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ধেড়ে ইঁদুর’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা মন্তব্য করেছিলেন কুণাল। বলেছিলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলুক। অপরাধীরা শাস্তি পাক। যদি কেউ সব জানেন, ‘মাথা’ চেনেন, ‘ধেড়ে ইঁদুর’ জানেন বলে ভাব দেখিয়ে প্রচার চান, তাঁকে অবিলম্বে সেই মামলায় সাক্ষী হিসেবে তদন্তে ডেকে পাঠানো হোক”।
আজ, বৃহস্পতিবার শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবী ভাস্করপ্রসাদ বৈশ্যের সঙ্গে কথোপকথনের সময় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “আমি কুণাল ঘোষের কথা এনজয় করি। রোজ কিছু না কিছু বলেন। এর বেশি আর কোনও মন্তব্য করছি না”।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। তিনি বলেছিলেন যে বিচারপতিরাও আইনের ঊর্ধ্বে নন। সেই বিষয়েও সরকারি আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “চন্দ্রিমাদি কে বলে দেবেন, আর কোনও মন্তব্য করব না”। তিনি আরও বলেন, “আমি কেন খারাপ কথা বলব! মুখ্যমন্ত্রী ভালো কাজ করছেন”।
এদিন নিজের করা ঢাকি মন্তব্য নিয়েও ক্ষমা চেয়েছেন বিচারপতি। দু’দিন আগেই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিচারপতি বলেছিলেন, “ঢাকি সমেত বিসর্জন দিয়ে দেব”। তা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়।
এদিন এজলাসে বসে দুঃখপ্রকাশ করে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “কাউকে উদ্দেশ করে বা কাউকে আঘাত করার জন্য আমি ওই কথা বলিনি”। তিনি এও বলেন যে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু তাঁর কথায় সংবাদমাধ্যমে যা প্রচারিত হচ্ছে, তা সবটা ঠিক নয়।





