অদ্ভুত ম্যাজিক! উত্তরপত্রে নম্বর শূন্য, অথচ এসএসসি ভবনে এসে হয়ে গেল ৪৩, শূন্য পেয়েও বেনিয়মে চাকরি ৯৪ জনের

এ যেন সেই কথাটার মতো, ‘ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল’। মানে উত্তরপত্রে এক নম্বর আর তা সেই এসএসসি ভবনে প্রবেশ করল, সেই নম্বর বেড়ে হয়ে গেল অন্য। উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বর ১ অথচ তা পরে হয়ে গেল ৪৩। কী অদ্ভুত ম্যাজিক!

আসলে গ্রুপ ডি-তে যে ১০০ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে, তাদের উত্তরপত্র প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আর তা যখন প্রকাশিত হল, তা দেখে এটাই মনে হবে যে কারোর জাদুবলেই এমন ঘটনা ঘটেছে যেন!

এই ১০০ জনের মধ্যে ৯৪ জনের উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বর শূন্য। অথচ কমিশনের সার্ভারে তাদের নম্বর ৪৩। আর বাকি ৬ জনের মধ্যে ৫ জন পেয়েছেন ১ নম্বর কিন্তু কমিশনের সার্ভারে সেই নম্বরও হয়ে গিয়েছে ৪৩। গ্রুপ ডি নিয়োগে কমিশনের তথ্যেই বেনজির দুর্নীতি প্রকাশ্যে এল। এই ১০০ জনের মধ্যে আবার ৫০ জনের নিয়োগ সুপারিশের ভিত্তিতে হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।

এর আগে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, নম্বর বেড়ে যাওয়া নিয়ে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, “কার ছোঁয়ায় এমন ম্যাজিক হল? পি সি সরকার সিনিয়র নাকি জুনিয়র”? এবার দেখা যাচ্ছে, শুধু শিক্ষক নিয়োগেই নয়, অশিক্ষক কর্মী নিয়োগেও নিদারুণ বেনিয়ম হয়েছে।

এর আগেও এই বিষয়টি সামনে এসেছিল যে উত্তরপত্রে যে নম্বর পেয়েছে প্রার্থী, তা এসএসসি ভবনে এসে বদলে গিয়েছে। এসএলএসটি-র ক্ষেত্রেও এমনই দুর্নীতি হয়েছিল। আর এবার গ্রুপ ডি-র ক্ষেত্রে ‘স্টাইল অফ কোরাপশন’-এর এমনই ঘটনা ঘটল। সিবিআইয়ের তরফে আগেই বলা হয়েছিল যে দুর্নীতি নষ্টের গোড়া হল এসএসসি-র সার্ভারই। আর এখন সেটাই প্রমাণিত হল আরও একবার।

আরও অন্যান্য খবর