প্রায় ৬৫ ঘণ্টা তল্লাশি-জেরার পর অবশেষে আজ, সোমবার ভোরে বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করে সিবিআইউ। ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পরই তাঁর উপর ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তাঁর বাবা বিশ্বনাথবাবু। নিজের কথার মাধ্যমে এটা বেশ ভালোভাবেই বুঝিয়ে দেন যে ছেলে গ্রেফতার হওয়ার কারণে তাঁর কোনও দুঃখ নেই বরং যা হয়েছে ভালোই হয়েছে।
বিশ্বনাথবাবু রেশন ডিলারের একজন ব্যবসায়ী। এদিন জীবনকৃষ্ণ গ্রেফতার হওয়ার পর বিশ্বনাথবাবু সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে জানান যে তাঁর ছেলে তাঁর ব্যবসায় অনেক ক্ষতি করেছে। তাঁর গুদামের সামনে গাড়ি রাখতে দিতেন না জীবনকৃষ্ণ। মালপত্র তোলা-নামানো করতে খুব সমস্যায় পড়তেন বলে জানান বিশ্বনাথবাবু।
তাঁর কথায়, এর প্রতিবাদ করলে ছেলে তাঁকে হুমকিও দিতেন। তাঁকে হাজতে ভরে দেওয়ার এমনকি, মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন তাঁর ছেলে। বিশ্বনাথবাবুর কথায়, তাঁর ছেলে তাঁরই অনেক ক্ষতি করেছে, আর অন্য লোক তো কোন ছাড়। তাঁর কথায়, তিনি ছেলেকে ত্যাজপুত্র করেছেন।
বিশ্বনাথবাবু এও জানান যে তাঁর ছেলে তাঁর থেকেই ঘুষ চেয়েছিলেন। মিড ডে মিলের একটি টেন্ডার পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় জীবনকৃষ্ণ তার বাবাকে বলেন যে এর জন্য তাঁকে টাকা দিতে হবে।
কিন্তু সেই টাকা দেন নি বিশ্বনাথবাবু। আর এর জেরে সেই টেন্ডার অন্য একজনকে পাইয়ে দেন জীবনকৃষ্ণ, এমনটাই জানালেন তাঁর বাবা। বিশ্বনাথবাবুর কথায়, “আমি টাকা দিইনি বলে ওন্য একজনের থেকে টাকা খেয়ে টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিল জীবন। এক সপ্তাহ আগে আমায় মার্ডার করারও হুমকি দিয়েছিল”। বিশ্বনাথবাবু এও জানান যে ১৯৯২ সালে তিনি রেশন ডিলারশিপের একটি লাইসেন্স পেয়েছিলেন। সেটাও জীবনকৃষ্ণ নিজের প্রভাব খাটিয়ে বাতিল করে দেন।
তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে নিয়ে অনেক তথ্য পেয়েছেন সিবিআই আধিকারিকরা। তাঁর দুটি ফোন যেগুলি জীবনকৃষ্ণ পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন, তা উদ্ধার হয়েছে। সেখান থেকে অনেক তথ্য মিলতে পারে বলে জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা। টাকার বিনিময়ে যোগ্যদের সরিয়ে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জীবনকৃষ্ণের বিরুদ্ধে। নানান চাকরির জন্য ছিল রেট চার্ট। তিনি একাই প্রায় ৫০০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন বলে দাবী সিবিআইয়ের।






