সকলের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়াই তাঁর কাজ। কিন্তু নিজের পেটেই নেই খাবার। অনলাইনে খাবার ডেলিভারি সংস্থা সুইগি-র এক কর্মীর এমন জীবনকষ্টের কথাই এবার সামনে এল। কিছুদিন আগেই তিন কিলোমিটার পথ হেঁটেই খাবার ডেলিভারি করতে গিয়েছিলেন তিনি। কারণ বাইকে তেল ভরার মতো পয়সাটুকুও ছিল না তাঁর কাছে। অভুক্ত থাকা ওই কর্মীর জীবন বদলে দিল সোশ্যাল মিডিয়া।
জানা গিয়েছে, সুইগি ডেলিভারি বয় ওই যুবকের নাম সাহিল সিং। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহিলের কথা জানান প্রিয়দর্শিনী নামে এক তরুণী। কিছুদিন আগে প্রিয়দির্শনীকেই খাবার পৌঁছে দিয়েছিলেন সাহিল। কিন্তু খাবার দেরিতে এসেছিল।
এমন দেরি হওয়ায় সুইগি কর্মীকে দু’কথা শুনিয়ে দেবেন বলে বাইরে বেরিয়েছিলেন প্রিয়দর্শিনী। কিন্তু বেরিয়েই হতভম্ব হয়ে যান তিনি। দেখেন বাড়ির চৌকাঠে বিধ্বস্ত অবস্থায় বসে রয়েছেন সাহিল। তাঁকে প্রশ্ন করে তিনি জানান যে তিনি ৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে খাবার সরবরাহ করতে এসেছেন। আর সেই কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি।
সাহিলকে খাবার জল দেন প্রিয়দর্শিনী। তাঁর কাছ থেকে ওই যুবকের সব কথা শোনেন তিনি। জানতে পারেন গত কয়েকদিন ধরে পেটে এক দানাও খাবার পড়ে নি সাহিলের। জল খেয়েই কাটিয়েছেন। সকলকে খাবার পৌঁছে দিলেও নিজের খাবার জোটে নি তাঁর। টাকার অভাবে বাইকের তেলও কিনতে পারেন নি। আর সেই কারণেই তিন কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে খাবার ডেলিভারি করেন সাহিল।
জানা গিয়েছে, জম্মুর বাসিন্দা সাহিল। বাইজুসের মতো সংস্থায় কাজ করেছেন স্নাতক ওই যুবক। লকডাউনে কাজ চলে যায় তাঁর। এরপর বাধ্য হয়ে অন্য শহরে এসে খাবার ডেলিভারির কাজ নেন সাহিল। ভাড়াবাড়িতে সঙ্গে থাকা এক যুবককে টাকা ধার দিয়ে বিপদে পড়েছেন। ওই টাকা ফেরত দিচ্ছে না সে। প্রিয়দর্শিনীর কাছে ভালো চাকরি আছে কী না, তা জানতে চান সাহিল।
প্রিয়দর্শিনী সাহিলের এই বক্তব্য ও বায়োডাটা পোস্ট করেন লিঙ্কডিনে। সাহিলকে ৫০০ টাকা দিয়ে সাহায্যও করেন তিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই আসল কাজ হয়। অনেকেই সাহিলের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান। কয়েকদিন পর আবার একটা চাকরিও পান সাহিল। প্রিয়দর্শিনীর এমন কাজের জন্য তাঁকে বাহবা জানান নেটিজেনরা।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার