জলপাইগুড়ির বিদ্যাসাগর! বিদ্যুতের বিল মেটাতে না পেরে আত্মঘাতী বাবা, পেট্রোল পাম্পের বাতিস্তম্ভের নীচে বসেই পড়াশোনা চালাচ্ছে দুই ভাইবোন

বর্তমানে যুগে এখন ঘরে ঘরে আলো। সন্ধ্যে নামলেই আলোয় ঝলমল করে ওঠে চারিদিক। কিন্তু সন্ধ্যে নামলেই একরাশ অন্ধকার এসে জমা হয় জলপাইগুড়ির পাহাড়পুরের তন্ত্র পরিবারের ঘরে। বিদ্যুতের বিল নে মেটাতে পেরে আত্মহত্যা করেছিলেন বাবা। তারপর থেকেই আর বিদ্যুৎ নেই ঘরে। সেই কারণে পেট্রোল পাম্পের বাতিস্তম্ভের নীচেই পড়াশোনা করে দিন কাটছে ভাইবোনের। এই ঘটনায় এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নজরদারি নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ল্যাম্পপোস্টের আলোর নীচে পড়াশোনা করে জ্ঞান অর্জন করেছেন। সে প্রায় ২০০ বছর আগেকার কথা। তখনকার পরিস্থিতির সঙ্গে এখনকার পরিস্থিতির আকাশ-পাতাল তফাত। কিন্তু তফাতটা হয়নি জলপাইগুড়ির পাহাড়পুরের তন্ত্র পরিবারে। যখন গোটা জলপাইগুড়ি আলোয় ঝলমল করে তখন এই পরিবার ডুবে যায় অন্ধকারে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

জানা গিয়েছে, বছর দশেক আগে এই তন্ত্র পরিবারে বিদ্যুতের বিল এসেছিল দেড় লক্ষ টাকা। তা দেখে কার্যত মানসিক ভারসাম্য হারান পরিবারের মাথা নীরেন তন্ত্র। এত পরিমাণ বিল না মেটাতে পেরে আত্মঘাতী হন তিনি। এরপর ওই বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

তারপর থেকে আর বাড়িতে আর বিদ্যুৎ আসেনি। নীরেন তন্ত্রের ছেলে হলেন আপন তন্ত্র। তাঁর দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে রাজ তন্ত্র পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। মেয়ে রাখি পড়ে প্রথম শ্রেণিতে। বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় পাহাড়পুর মোড় সংলগ্ন বালাপাড়া জাতীয় সড়কের পাশে পেট্রল পাম্পের বাতি স্তম্ভের নিচে বসে পড়াশোনা করে দুই ভাইবোন।

কী জানাচ্ছেন আপন তন্ত্র?

আপন তন্ত্র জানান, “অস্বাভাবিক বিদ্যুতের বিল মেটাতে না পারায় আত্মহত্যা করেছিলেন বাবা। বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে ১০ বছর আগে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তারপর থেকে কুপির আলোতে রান্না-খাওয়া চলছে। ছেলেমেয়ের পড়ার জন্য এখন পেট্রল পাম্পের আলোই ভরসা”।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে পেট্রল পাম্পের কর্মী অনুপ দেবনাথ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি এই দুই ভাইবোন আমাদের পেট্রল পাম্পের আলোতে পড়াশোনা করে। বৃষ্টি হলে বাড়ি চলে যায়। বৃষ্টি কমলে আবার ফিরে আসে। দেখে খুব খারাপ লাগে”।

এমন ঘটনার কথা হতবাক হয়েছে পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের বিদায়ী উপপ্রধান বেণুরঞ্জন সরকার। তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়। যদিও এই পরিবারের তরফে আমাদের জানানো হয়নি। আমারও নজরে পড়েনি আগে। তবে এবার জানতে পারলাম। খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব”।

আরও অন্যান্য খবর