র্যাগিং নিয়ে এখন রাজ্য উত্তাল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রের মৃত্যুর পর থেকেই নানান স্কুল-কলেজ থেকেই র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠে আসছে। রাজ্যের নানান প্রান্তের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র্যাগিং নিয়ে নানান আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার ফের এক স্কুল হোস্টেল থেকে উঠে এল র্যাগিংয়ের অভিযোগ।
এবার র্যাগিংয়ের অভিযোগ এল বসিরহাটের এক স্কুল থেকে। সিনিয়রদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের অভিযোগ করল তিন ছাত্র। সিনিয়রদের অত্যাচারের ভয়ে নাবালক তিন ছাত্র পালিয়েছিল স্কুল হোস্টেল থেকে। তাদের উদ্ধার করে দেগঙ্গা থানার পুলিশ। তুলে দেওয়া হয় চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিশনের হাতে।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বাসিরহাটের বেড়াচাঁপা বাজারে তিন নাবালককে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন এক মিষ্টি ব্যবসায়ী। তাদের পরনে স্কুল পোশাক দেখে সন্দেহ হয় তাঁর। ওই মিষ্টি ব্যবসায়ী জানান, “ওই ছাত্রদের পরনে যে বিদ্যালয়ের পোশাক ছিল, তা আমাদের এই এলাকার কোনও স্কুলের না। তাই সন্দেহ হওয়ায় তাদের ডেকে দোকানে বসিয়ে রাখি”।
এরপরই তিনি দেগঙ্গা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। ওই তিন নাবালক ছাত্রকে উদ্ধার করে তারা। ওই ছাত্রদের থেকে পুলিশ জানতে পারে যে তারা মাটিয়া থানার বেলে ধান্যকুড়িয়া হাইস্কুলের ছাত্র। দু’জন পড়ে পঞ্চম শ্রেণীতে আর একজন ষষ্ঠ শ্রেণীতে।
কী অভিযোগ জানায় ওই ছাত্ররা?
তারা জানায় যে তারা স্কুল হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করে। অভিযোগ, সিনিয়র দাদারা প্রায় নিয়মিত মারধর করত তাদের। বেশ কয়েকদিন সেই অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করলেও শেষমেশ আর তা মেনে নিতে পারেনি তিন খুদে ছাত্র। তাই সকলের চোখ এড়িয়ে হস্টেল থেকে পালিয়ে যায় তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, এদিন সন্ধ্যে পর্যন্ত র্যাগিং বা মারধরের কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ওই নাবালক ছাত্রদের অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়। ওই তিন ছাত্রকে উদ্ধার করার পর তাদের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।






