‘মুখ্যমন্ত্রীর ভুল চিকিৎসা হলে সাধারণ মানুষের কী হবে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে শোকজ করা উচিত’, দাবী দিলীপের, পরোক্ষভাবে কাকে ঠুকলেন বিজেপি নেতা?

পায়ে চোটের কারণে দীর্ঘদিন নবান্নে যেতে পারেন নি মুখ্যমন্ত্রী। অবশেষে ৫৫ দিন পর নবান্নে যান তিনি। গতকাল, বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন যে তাঁর ভুল চিকিৎসা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএমের চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। ফলে তিনি যে এসএসকেএমের কথাই বলেছেন, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। এবার মুখ্যমন্ত্রীর এই ভুল চিকিৎসা নিয়ে মন্তব্য করলেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ।

কী বললেন দিলীপ?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে এবার স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে আঙুল তুললেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, “এসএসকেএম রাজ্যের অন্যতম নামী সরকারি হাসপাতাল। সেখানে যদি খোদ মুখ্যমন্ত্রীরই ভুল চিকিৎসা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে”?

পায়ের এই চোটের কারণে একমাস হাঁটতে পারেন নি মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন নবান্নেও যান নি। বাড়ি থেকে প্রশাসনিক কাজ সামলেছেন। এই নিয়ে দিলীপ বলেন, “এক মাস হল, কেন উনি হাঁটতে পারছেন না? মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যা হল, তার জন্য অবিলম্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে শোকজ করা উচিত”।

বলে রাখি, বাংলার স্বাস্থ্যমন্ত্রক কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। আর দিলীপ ঘোষ সেকথা খুব ভালোভাবেই জানেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতার মন্তব্যে পরোক্ষভাবে তাঁকেই বিঁধে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দিলীপ ঘোষ।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ভুল চিকিৎসা হয়েছে এসএসকেএমে, একথা জানার পরই আলোড়ন তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এসএসকেএম রাজ্যের অন্যতম নামকরা হাসপাতাল। কলকাতা তো বটেই, জেলা থেকেও এখানে মানুষ আসে চিকিৎসার জন্য। সেই হাসপাতালে যদি মুখ্যমন্ত্রীরই ভুল চিকিৎসা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এবার দিলীপ ঘোষও সেই প্রশ্নই তুললেন।

প্রসঙ্গত, নিজের শারীরিক অসুস্থতা সম্পর্কে গতকাল, বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমার পায়ে সংক্রমণটা সেপটিক টাইপের হয়ে গিয়েছিল ভুল চিকিৎসার জন্য। হাতে স্যালাইনের চ্যানেলের মতো করে চ্যানেল লাগানো হয়েছিল। সাতদিন চ্যানেল করা ছিল। আইভি চলছিল। বিছানা থেকে উঠতেই পারিনি”।

আরও অন্যান্য খবর