দিনদিন বেড়েই চলেছে বাজারদর। বাজার করতে গেলে পেঁয়াজের দাম শুনেই চোখে জল চলে আসার জোগাড়। আবার কিছুদিন পর বাড়বে আলুর দামও, খবর তেমনটাই। ফলে রবিবার সকালে বাজার করতে যাওয়ার আগেই আমজনতার যেন বুক দুরু দুরু যে বাজারে গিয়ে আদৌ কিনবেটা কী! কিন্তু বাজারে গিয়েই হঠাৎ যেন মন ভালো হয়ে গেল।
মুরগির মাংসের দোকানের সামনে দাঁড়াতেই মুখে ফুটে উঠল চওড়া হাসি। কারণে চিকেনের দোকানে যে বোর্ড ঝোলানো, তাতে লেখা চিকেনের দাম কেজি প্রতি ১১৫ টাকা। তা দেখে তো কেউ কেউ আবার বেশি বেশি করে কিনে ফেললেন চিকেন। রাজ্যের নানান বাজারেই চিকেনের দাম এক ধাক্কায় কমে গেল অনেকটাই। বর্ধমানে তো গোটা চিকেন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে আর কাটা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।
সব দোকানেই মোটামুটি কাটা মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৫০ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। চলতি মাসের শুরু থেকেই চিকেনের দামটা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। বিগত কয়েকদিন ধরে চিকেনের দাম ছিল মোটামুটি প্রতি কেজি ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা। কিছুদিন আগেও চিকেনের দাম আড়াইশো টাকার উপরে উঠে গিয়েছিল। তবে আজ, রবিবার মানিকতলা বাজারে চিকেন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়।
হঠাৎ কেন কমে গেল মুরগির দাম?
বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, এবার মুরগির চাষ এবার বেশি হয়েছে। তাই বেড়েছে জোগান। সেই কারণেই এতটা দাম কমে গিয়েছে মুরগির। আর ছুটির দিনে এমন কম দামে চিকেন কিনে তো সাধারণ মানুষের হাসি আর ধরে না। রবিবার দুপুরটা জমে যাবে গরম ভাত ও মুরগির ঝোলের সঙ্গে।
আর ডিসেম্বর মানেই তো পিকনিকের মরশুম। ফলে চিকেনের দাম কমে যাওয়ায় যেন হাতে চাঁদ পেয়েছেন অনেকে। এক ব্যক্তির কথায়, “একেবারে এত কমদামে চিকেন ভাবতেই পারিনি। শেষ করোনাকালে এতটা দাম কমেছিল। আজ তো জমিয়ে খাব। তবে পেঁয়াজের দামটা একটু কমলে ভালো হত”।
পেঁয়াজের দাম নিয়ে সত্যিই চিন্তায় পড়েছে বঙ্গবাসী। অন্যান্য বছরে এই সময়টা যেখানে পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে, সেই জায়গায় এবার পেঁয়াজ প্রায় সেঞ্চুরি করার পথে। আজ, রবিবার পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। অকাল বৃষ্টির জেরেই পেঁয়াজের এমন লাগামছাড়া দাম। এই দাম কমতে কমতে নতুন বছর পড়ে যাবে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে মুরগির দাম কমে গেলেও পেঁয়াজের দামের জেরে মুরগির ঝোলটা আদৌ বঙ্গবাসী কতটা উপভোগ করবে, তা নিয়ে তো সংশয় থেকেই যাচ্ছে।






