বেঁচে থেকেও মৃ’ত! সরকারি খাতায়-কলমে মৃ’ত তিনি, বন্ধ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে সরকারের দুয়ারে গৃহবধূ

বেঁচেই রয়েছে। দিব্যি স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসারও করছেন। কিন্তু বন্ধ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। কেন টাকা ঢুকছে না অ্যাকাউন্টে, তা খোঁজ নিতে গিয়েই সামনে এল আসল সত্যি। মহিলা জানতে পারলেন, তিনি নাকি মৃ’ত। এখন নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে সরকারের দুয়ারে দুয়ারে হন্যে দিয়ে পড়ে থাকছেন গৃহবধূ।   

কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা?

ঘটনাটি ঘটেছে ঘাটাল ব্লক সুলতানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুরান গ্রামে। ওই মহিলার নাম দীপালি মাণ্ডি। গত বছরের মার্চ মাসে শেষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই বন্ধ টাকা। কেন এমন হচ্ছে, তা খোঁজ নিতে সরকারের দুয়ারে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। সেখানেই তিনি জানতে পারেন যে সরকারি খাতায় তিনি নাকি মৃ’ত। জলজ্যান্ত মানুষ কীভাবে এমন ‘মৃ’ত’ হয়ে যেতে পারেন, তা বুঝতেই পারছেন না দীপালিদেবী। নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে হচ্ছে তাঁকে এখন।  

কী জানাচ্ছেন ওই মহিলা?

দীপালিদেবীর কথায়, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মার্চ অবধি পেয়েছি। তারপর দুয়ারে সরকারে খোঁজ করি। সেখানে কম্পিউটারে দেখে বলছে আমি নাকি মৃত। কী করে যে হঠাৎ মারা গেলাম বুঝলাম না। এরপর অঞ্চলে যাই। সেখান থেকে বিডিও অফিসে। এক বছর হতে চলল কোনও খবর নেই”।

নিজের বেঁচে থাকার প্রমাণ দেওয়ার জন্য এখন গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে ব্লক প্রশাসনের অফিসে ঘুরতে হচ্ছে দীপালিদেবীকে। প্রতিনিয়ত নানান লিখিত আবেদন দিতে হচ্ছে তাঁকে।  

এই বিষয়ে সুলতানপুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান কৌশিক জানা বলেন, “আগের তৃণমূল বোর্ডে উনি অনেকবার জানিয়েছেন। আমাদের বিজেপির বোর্ড নতুন। আমরা মানুষের পাশে আছি। উনি আমাদের জানিয়েছেন। আমরাও মহকুমা থেকে ব্লক প্রশাসন, সর্বত্র জানিয়েছি। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক”।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে ঘাটালের বিডিও অভিক বিশ্বাস বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে কীভাবে ওই মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান, তার দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে”।

আরও অন্যান্য খবর