মাত্র একটি ঠিকানায় মিলত সব ভারতীয় পরিচয়পত্র—আধার, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড থেকে শুরু করে পাসপোর্ট। তবে, প্রত্যেকটি ছিল ভুয়ো। বারাসতের কাজীপাড়ায় সমরেশ বিশ্বাস ও তার ছেলে রিপন মিলে এই জাল নথি তৈরির ব্যবসা চালাচ্ছিল। পুলিস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের বহু নাগরিক, যারা হাসিনা সরকারের পতনের পর বেআইনি উপায়ে ভারতে ঢুকেছে, তারাই এই নথি ব্যবহার করে ভারতীয় নাগরিক সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত দু’মাসে অন্তত ২৫০টি পাসপোর্ট তৈরি করেছে এই চক্র। তাদের সাহায্য করছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ছাত্র এবং গড়িয়া পোস্ট অফিসের অস্থায়ী কর্মী দীপক মণ্ডল। কলকাতা পুলিসের সিকিওরিটি কন্ট্রোল অফিস অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।
সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে পাসপোর্ট আবেদনের নথি যাচাই করার সময় বিষয়টি সামনে আসে। রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিস আধার এবং ভোটার কার্ডের তথ্য পরীক্ষা করে দেখে যে নাম এবং ছবির সঙ্গে নম্বরের মিল নেই। এর পরেই পুলিশ তদন্তে নামে। ২৫০টি ভুয়ো পাসপোর্ট চিহ্নিত করা গেলেও সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য, এই সমস্ত পাসপোর্ট আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে বিষয়টি জানার পর ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। সিট গঠন করে তদন্ত শুরু করে পুলিস।
তদন্তে পুলিস অভিযুক্তদের মোবাইল নম্বরের কল ডিটেলস খুঁজে বের করে। সমরেশ, রিপন এবং দীপকের পাশাপাশি একাধিক এজেন্টের নাম উঠে আসে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২ থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশিদের ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়া হতো। গড়িয়া পোস্ট অফিসের অস্থায়ী কর্মী দীপক, যিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, নিজে পাসপোর্ট তুলে বাংলাদেশিদের হাতে পৌঁছে দিতেন।
বাবা-ছেলে স্বীকার করেছে যে তাদের বাড়িতে জাল আধার, ভোটার কার্ড, এমনকি স্কুল-কলেজের শংসাপত্রও তৈরি হতো। পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার জন্য এই নথি ব্যবহার করা হতো। তাদের দ্বিতীয় পদ্ধতিটি ছিল আরও বিপজ্জনক। স্থানীয় থানা এবং পাসপোর্ট অফিসের একাংশকেও ম্যানেজ করে নথির সরেজমিন যাচাই বন্ধ রাখা হতো। দীপক গড়িয়া পোস্ট অফিসে পাসপোর্ট ডেলিভারির কাজ দেখভাল করায় তার মাধ্যমেই এই জালিয়াতি চালানো হতো।
আরও পড়ুন: ঠান্ডার ছুটি! রাজ্যে বাড়ছে তাপমাত্রা, বৃষ্টির পূর্বাভাস
পুলিস জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির পেছনে মূলত এই চক্রের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র থেকে নথির তথ্য পাল্টে পাসপোর্ট তৈরি করানো এবং স্থানীয় থানার সাহায্যে যাচাই প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার মতো কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে, এবং আরও অভিযুক্তদের সন্ধান করছে পুলিস।





